
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকট বিবেচনায় রেখে সরকার দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নির্ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীনসহ সংশ্লিষ্ট সব দেশের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সোমবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে একই দিন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রক্ষেপণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় ও কর্মসূচি সমন্বয় করা হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, এ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সরকার চীনসহ জ্বালানি সরবরাহকারী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করবে এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে এবং এটি দুই দেশের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর একটি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এছাড়া নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত তিন সপ্তাহে চারটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।






































