
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানকে একদিকে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছেন, অন্যদিকে হামলা অব্যাহত রাখার হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প তেহরানকে এই দ্বিমুখী বার্তা দেন।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। তবে তেহরান আলোচনায় না এলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী; যদিও ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় নেই।
এদিকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। তবে এই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, ইরান ইতিমধ্যে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করার মতো কঠিন শর্ত থাকায় তেহরান এতে রাজি হয়নি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হলে ইরানকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তিনি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, ‘তারা যদি আমাদের কথা না মানে, তবে আমরা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠব।’ তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখতেই ট্রাম্প এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনবে, কিংবা টানা কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর নতুন করে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি কতটা বদলাতে পারবে—সে বিষয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।






































