
সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দ্বৈত বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি এখন এক সংকটজনক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে
ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো শেষ মুহূর্তে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। এর আগে মার্চের শেষ দিক থেকে তিনি একাধিকবার এমন হুমকি দিলেও পরে তা পিছিয়ে দেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইরানে ২,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি লেবানন, ইরাক, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলেও প্রাণহানি ঘটেছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অন্তত ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য আলোচনা চালাতে পারবে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, মিশর এবং তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
৪৫ দিনের পাশাপাশি একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে, যা মূলত বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। পরে তা বড় ধরনের চুক্তির দিকে এগোতে সহায়ক হতে পারে।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনীর। তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকভ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি, তবে তাদের হুমকি বা চাপ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যাবেনা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আলোচনা কখনোই হুমকি বা যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
ইরানের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে আগ্রহী নয়।
যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কতটা?
বিশ্লেষকদের মতে, ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি হলে তা বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেটি স্থায়ী সমাধান নাও আনতে পারে—বিশেষ করে যদি উভয় পক্ষ একে অপরের প্রতি আস্থাহীন থাকে।
সব মিলিয়ে, সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দ্বৈত বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি এখন এক সংকটজনক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প











































