
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প জেফ্রি এপস্টেইন বিতর্ক থেকে নিজের নাম দূরে রাখতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেও তা উল্টো নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ক্রস হলে প্রায় ছয় মিনিটের এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি এপস্টেইনের কোনো ভিকটিম নই, এবং এপস্টেইন আমাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি।’
মেলানিয়া বলেন, তিনি কখনোই এপস্টেইনের বন্ধু ছিলেন না। তবে নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় সামাজিক পরিসরে মাঝে মাঝে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে। ‘আমাকে এই লজ্জাজনক ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত করে যে মিথ্যা বলা হচ্ছে, তা আজই বন্ধ হওয়া উচিত,’ তিনি বলেন।
তার বক্তব্যটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ সাম্প্রতিক সময়ে তাকে নিয়ে বড় কোনো জনসমালোচনা চলছিল না। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি উল্টো বিতর্কটিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছেন।

মেলানিয়া তার বক্তব্যে ২০০২ সালে এপস্টেইনের সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ইমেইল আদান–প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সেটি ছিল কেবল ‘সাধারণ ও তুচ্ছ যোগাযোগ’।
ডোনাল্ড ট্রাম্পও অতীতে এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে ২০০০–এর দশকের শুরুতেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।
তবে এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন এই মামলার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেনি এবং অনেক নথি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তাদের মতে, মেলানিয়ার বক্তব্য ভুক্তভোগীদের ওপরই আবার চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এখন মেলানিয়াকে কংগ্রেসের কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যদি তিনি সত্যিই নিজের নাম পরিষ্কার করতে চান, তবে শপথ নিয়ে কমিটির সামনে বক্তব্য দেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে এই বক্তব্য এসেছে যখন ইরান যুদ্ধসহ একাধিক ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসন চাপের মুখে রয়েছে। ফলে এই নতুন এপস্টেইন বিতর্ক হোয়াইট হাউসের জন্য আরও একটি বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।









































