
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে আজ (২৯ এপ্রিল) জুন মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১১.১৮ ডলারে। এছাড়া জুলাই মাসের সরবরাহের জন্য এই তেলের দাম ২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪.৩৩ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ থাকার আশঙ্কা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি হুমকির পর সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে, জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সার ও অন্যান্য ধাতব পণ্যের দামকেও প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪.১৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। তেলের এই উচ্চমূল্য পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর।
যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ১১৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।








































