বৃহস্পতিবার । মে ২৮, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ২৮ মে ২০২৬, ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

চামড়া পাচারের আশঙ্কা, সীমান্তে কঠোর নজরদারির তাগিদ ট্যানারি মালিকদের


leather

পবিত্র ঈদুল আজহার এই দিনে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহকে ঘিরে দেশের চামড়াশিল্পে আবারও পুরনো আতঙ্ক ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা করছেন উপযুক্ত দামের অভাব, নগদ টাকার তীব্র সংকট, সংরক্ষণ সমস্যা এবং সীমান্তে পাচারকারী চক্রের তৎপরতার কারণে এ বছরও বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া প্রতিবেশী দেশে পাচার হয়ে যেতে পারে।

ট্যানারিশিল্পের উদ্যোক্তারা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এ বছর পশু কোরবানি বন্ধ থাকায় সেখানকার চামড়াশিল্প চালু রাখতে কাঁচা চামড়ার বিশাল চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে কোরবানির চামড়া পাচারের বড় ঝুঁকি দেখছেন তাঁরা। বিষয়টি এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন ট্যানারিশিল্পের শীর্ষ নেতারা। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) ধারণা করছে, এ বছর দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ পিস পশুর চামড়া সংগ্রহ হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ঈদের দিন থেকে অন্তত তিন মাস সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিটিএ চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ।

চামড়াশিল্পের মালিকদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে মাঠপর্যায়ে চামড়া কেনাবেচার জন্য পর্যাপ্ত নগদ টাকার সরবরাহ নিশ্চিত করা, সীমান্তে কড়াকড়ি এবং চামড়া পরিবহনে নিরাপত্তা সহায়তা চাওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঈদের এই সময়ে ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত থাকায় অনেক ব্যবসায়ী অর্থের অভাবে চামড়া কিনতে পারেন না। আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগায় পাচারকারী চক্র। তারা মাঠপর্যায় থেকে কম দামে চামড়া কিনে তা সীমান্তের ওপারে পাঠানোর চেষ্টা করে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। এরই মধ্যে বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি, চেকপোস্ট বৃদ্ধি এবং চামড়া পরিবহনের রুটগুলোতে তৎপরতা জোরদারের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ, কেনাবেচা ও পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তিনটি কমিটি ও একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে।

তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে চামড়া পাচারের বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও রাজারহাট এলাকার চামড়া বেনাপোল, কলারোয়া ও সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে এবং ঝিনাইদহ, মাগুরা ও মহেশপুর অঞ্চলের চামড়া জীবননগর সীমান্ত দিয়ে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া নাটোরের চামড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ও গোদাগাড়ী সীমান্ত এবং কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গার চামড়া মেহেরপুর ও দর্শনা সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পাচার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে জাফলং, তামাবিল ও করিমগঞ্জ এবং উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন সীমান্ত পথকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় যে বিপুল পরিমাণ পশু কোরবানি হয়, সেই চামড়াগুলো ঢাকার বাইরে পাচারের ক্ষেত্রে সাভার, গাজীপুর চৌরাস্তা, কাঁচপুর ব্রিজ, আশুলিয়া, বুড়িগঙ্গা ব্রিজ ও সিংগাইর ব্রিজকে সম্ভাব্য রুট হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এসব পয়েন্টেও প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।