মঙ্গলবার । জুন ২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২ জুন ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের ৬ জনকে হত্যার পর বন্দুকধারীর আত্মহত্যা


usa-police

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের মাসকাটিন শহরে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের পরিবারের ছয় সদস্যকে গুলি করে হত্যার পর নিজে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক বন্দুকধারী। স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) দুপুরে এই রোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দিন দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে একটি আবাসিক বাড়ি থেকে প্রথম গুলিবর্ষণের খবর দিয়ে পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করা হয়। তথ্য পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে একই পরিবারের চারজন সদস্যের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ওই সশস্ত্র হামলাকারী সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে এই নৃশংস ঘটনার তদন্ত ও অনুসন্ধানের সূত্র ধরে পুলিশ ওই এলাকার আরও দুটি সম্ভাব্য স্থানে চিরুনি তল্লাশি চালায়। সেখান থেকে আরও দুজন পুরুষের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয় অন্য একটি বাড়ি থেকে এবং দ্বিতীয়জনের মরদেহ পড়ে ছিল কাছেরই একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে।

প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, উদ্ধার হওয়া সবকটি মরদেহই হামলাকারীর নিজস্ব পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ও মূল অভিযুক্ত এই ঘাতক বন্দুকধারীকে ৫২ বছর বয়সী রায়ান উইলস ম্যাকফারল্যান্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন।

লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং পুলিশ খুনিকে ধরতে চারদিকে কর্ডন গড়ে তোলে। একপর্যায়ে মিসিসিপি নদীর তীরবর্তী একটি রিভারফ্রন্ট ট্রেইল বা হাঁটার পথ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি পথচারী সেতুর কাছাকাছি রায়ানের অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

সে সময় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ না করে এবং সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পালানোর কোনো পথ না পেয়ে, রায়ান উইলস ম্যাকফারল্যান্ড নিজের কাছে থাকা বন্দুক দিয়ে নিজের মাথায় গুলি চালান এবং ঘটনাস্থলেই আত্মহত্যা করেন।

মর্মান্তিক এই একই পরিবারের সাতজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো মাসকাটিন শহরজুড়ে বর্তমানে গভীর শোক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ঘটনার পেছনের মূল কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।