sentbe-top

এবার মৃত্যুদণ্ড রংপুর বদর কমান্ডারের

22082012125504pm2d59305f15d3706437fbb5ff8bcf0b6dবাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাপূর্বক হত্যা, গনহত্যা, ধর্ষণ প্রভৃতি যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মুক্তিযুদ্ধকালীন আলবদর বাহিনীর রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মঙ্গলবার সকালে এ রায় ঘোষণা করেন।

প্রসিকিউশনের আনা ছয় অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আমৃত্যু ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আজহারের দণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন আদালত।

আজ বেলা ১১টা ১৮ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণা শেষ হয় ১২টা ৪৫ মিনিটে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর আজহারুলের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শেষে রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি-কেস অ্যায়োটিং ভারডিক্ট) রাখেন ট্রাইব্যুনাল। আজ তা ঘোষণা করা হলো। এটি জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় অষ্টম নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়।

রায় ঘোষণা উপলক্ষে সকাল নয়টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আজহারুলকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় আনা হয়। বেলা ১১টার কিছু আগে জামায়াতের এই নেতাকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। দোয়েল চত্বর থেকে ট্রাইব্যুনালের দিকের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বাইরে প্রস্তুত রাখা হয় পুলিশের সাঁজোয়া যান।

জীবনবৃত্তান্তে আজাহার

এটিএম আজহারুল ইসলামের জন্ম ১৯৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার বাতাসন লোহানীপাড়া গ্রামে। বাবার নাম নাজির হোসাইন, মা রামিসা বেগম।

১৯৬৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে পরের বছর তিনি ভর্তি হন রংপুর কারামাইকেল কলেজে। একত্তরে বাঙালি যখন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, আজহার তখন জামায়াতের সেই সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের জেলা কমিটির সভাপতি হিসাবে আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডার।

বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম দমনে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা দিতে শীর্ষ জামায়াত নেতাদের তত্ত্বাবধানে এই সশস্ত্র দলটি গড়ে তোলা হয়।

পাকিস্তানি বাহিনী সে সময় রংপুর টাউন হলকে  নির্যাতন কেন্দ্রে পরিণত করে এবং বৃহত্তর রংপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে ধরে এনে সেখানে নির্যাতন করা হয়।

রংপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজহার সে সময় ৭০ জন আল-বদর সদস্যের একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনদের তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে দিতেন এবং তাদের হত্যা, আটকে রেখে নির্যাতনে অংশ নিতেন।

১৭ আগস্ট আল বদর বাহিনী সারা দেশেই সভা-সমাবেশ করে। রংপুর সদরে আল বদর বাহিনীর সেই সভা হয় এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে, যা জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামেও আসে।

১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলার বিজয়ের আগে আগে আজহার দেশত্যাগ করেন এবং চলে যান সৌদি আরবে।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর আজহার আবার দেশে ফেরেন এবং ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন।

জিয়াউর রহমানের আমলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার পর দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আজহার। ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পান এবং ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন আজহার। ২০১২ সালের ২২ অগাস্ট তিনিও একই অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার হন।

যুদ্ধাপরাধের যতো অভিযোগ

এটিএম আজহারুল ইসলামের জন্ম ১৯৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার বাতাসন লোহানীপাড়া গ্রামে। বাবার নাম নাজির হোসাইন, মা রামিসা বেগম।

১৯৬৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে পরের বছর তিনি ভর্তি হন রংপুর কারামাইকেল কলেজে। একত্তরে বাঙালি যখন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, আজহার তখন জামায়াতের সেই সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের জেলা কমিটির সভাপতি হিসাবে আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডার।

বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম দমনে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা দিতে শীর্ষ জামায়াত নেতাদের তত্ত্বাবধানে এই সশস্ত্র দলটি গড়ে তোলা হয়।

পাকিস্তানি বাহিনী সে সময় রংপুর টাউন হলকে  নির্যাতন কেন্দ্রে পরিণত করে এবং বৃহত্তর রংপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে ধরে এনে সেখানে নির্যাতন করা হয়।

রংপুরের মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজহার সে সময় ৭০ জন আল-বদর সদস্যের একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের স্বজনদের তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে দিতেন এবং তাদের হত্যা, আটকে রেখে নির্যাতনে অংশ নিতেন।

১৭ আগস্ট আল বদর বাহিনী সারা দেশেই সভা-সমাবেশ করে। রংপুর সদরে আল বদর বাহিনীর সেই সভা হয় এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে, যা জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামেও আসে।

১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলার বিজয়ের আগে আগে আজহার দেশত্যাগ করেন এবং চলে যান সৌদি আরবে।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর আজহার আবার দেশে ফেরেন এবং ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেন।

জিয়াউর রহমানের আমলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার পর দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আজহার। ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পান এবং ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন আজহার। ২০১২ সালের ২২ অগাস্ট তিনিও একই অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার হন।

এর আগে দুই ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমির গোলাম আযম, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলার রায় দিয়েছেন। দলটির নায়েবে আমির এ কে এম ইউসুফ মামলা বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান। আরেক নায়েবে আমির মুহাম্মদ আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম শেষে রায়ের অপেক্ষায় আছে।

sentbe-top