sentbe-top

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় একদিনে নিহত ৬৮

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পৃথক দুটি বিমান হামলায় অন্তত ৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। গতকাল দেশটিতে জাতিসংঘের  মানবতা সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী জেমি ম্যাকগোল্ডরিক এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এএফপি।

এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশের একটি জনাকীর্ণ বাজারে প্রথম বিমান হামলাটি চালানো হয়। এ হামলায় আট শিশুসহ অন্তত ৫৪ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে ম্যাকগোল্ডরিক জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় বিমান হামলাটি লোহিত সাগরপাড়ের হোদেইদা প্রদেশে চালানো হয়। এ হামলায় একই পরিবারের ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। হামলায় বেসামরিক নাগরিক হতাহতের প্রসঙ্গে ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, ইয়েমেনজুড়ে ক্রমবর্ধমান ও নির্বিচার হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক প্রাণহানি নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবারের দুটি বিমান হামলায় হতাহতের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে গত ১০ দিনের লড়াইয়ে আরো ৪১ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া এসব ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ৪৩ জন।

চলতি মাসের ১৯ তারিখের পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা বাড়িয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর সৌদি আরবের বিমান বাহিনী রাজধানী রিয়াদের দিকে ছুটে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করে বলে সৌদি আরব জানিয়েছে।

ইয়েমেনের যুদ্ধ নিয়ে গতকাল ম্যাকগোল্ডরিক বলেন, সৌদি জোটসহ দেশটিতে যুদ্ধরত সব পক্ষ এই অর্থহীন যুদ্ধে অব্যাহতভাবে মানুষের জীবনকে অবজ্ঞা করে আসছে। গত কয়েকদিনের ঘটনাগুলোয় এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। অর্থহীন এ যুদ্ধ কেবল ইয়েমেনের ধ্বংস এবং জনগণের অপরিসীম দুর্ভোগ বয়ে আনছে বলে এ সময় তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, উভয় পক্ষের এক ব্যর্থ সামরিক অভিযানে দেশটির সাধারণ জনগণকে শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। সৌদি জোটসহ আমি সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় তাদের বাধ্যবাধকতাকে মনে করিয়ে দিতে চাই। যার আওতায় তারা বেসামরিক নাগরিক ও  অবকাঠামোর ধ্বংস থেকে বিরত থাকতে বাধ্য এবং একই সঙ্গে তাদের সবসময় বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করতে হবে।

এদিকে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ যুদ্ধের কোনো সামরিক সমাধান নেই বলে জানান জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা। তার মতে, কেবল সমঝোতার মধ্য দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

চলতি মাসে দেশটির যুদ্ধ হাজারতম দিনে পৌঁছেছে। ২০১৫ সালে শিয়া মতালম্বী হুথি বিদ্রোহীদের রাজধানী সানা ও ইয়েমেনের অধিকাংশ অংশ দখলের মাধ্যমে দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরই দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। জোটের সর্বোচ্চ অস্ত্রশক্তি থাকা সত্ত্বেও বিদ্রোহীরা এখন পর্যন্ত রাজধানী ও দেশের উত্তরাঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বহাল রেখেছে।

২০১৫ সালে সৌদি জোট যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার পর থেকে ৮ হাজার ৭৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। তবে চলতি বছরটি ইয়েমেনের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে হাজির হয়েছে। যুদ্ধে হতাহতের মধ্যেই এপ্রিলে দেশটিতে ভয়াবহ আকারে কলেরা মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে শিশুসহ দেশটির ১০ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে। এ যুদ্ধ দেশটিকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

sentbe-top