মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১ জুলাই ২০২৫, ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার


সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা বেশিরভাগ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন। একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। দেশটির নতুন অন্তর্বর্তী নেতা আহমেদ আল-শারা’র সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে।

 

সোমবার (৩০ জুন) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে সিরিয়ার অর্থনৈতিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অনেকাংশে তুলে নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘দেশটির স্থিতিশীলতা ও শান্তির পথে যাত্রাকে উৎসাহিত ও সমর্থন’ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সিরিয়ার অংশগ্রহণের পথ সুগম হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সন্ত্রাস ও আর্থিক গোয়েন্দাবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি ব্র্যাড স্মিথ জানান, নতুন আদেশের ফলে সিরিয়া আর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে থাকবে না। এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পাশের দেশগুলোর পক্ষ থেকেও বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে। তবে, এই আদেশে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার পরিবারের সদস্য, শীর্ষ সহকারী এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন, মাদক পাচার বা রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচিতে জড়িত কর্মকর্তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এই ‘সিজার অ্যাক্ট’ নামের বিধিনিষেধ কেবল কংগ্রেসের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা সম্ভব।

 

হোয়াইট হাউস এক্স প্ল্যাটফর্মে নির্বাহী আদেশের পূর্ণপাঠ প্রকাশ করেছে, তবে স্বাক্ষরের সময় সংবাদকর্মীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো সিরিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র, যা ১৩ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পরবর্তী এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়।নিষেধাজ্ঞা

 

এই আদেশের মাধ্যমে ২০০৩ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের ঘোষিত ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ বাতিল করা হয়েছে, যা সিরিয়ার লেবাননে হস্তক্ষেপ ও গণবিধ্বংসী অস্ত্র উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে জারি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সিরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও পাঁচটি পুরনো নির্বাহী আদেশও বাতিল করা হয়েছে।

 

তবে এই ছাড়ের আওতায় পড়েনি সন্ত্রাসী সংগঠন ও ‘ক্যাপ্টাগন’ নামের অ্যামফেটামিন-জাতীয় মাদক উৎপাদকদের লক্ষ্য করে থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো। সেগুলো এখনও বহাল থাকবে।

 

গত মে মাসে সউদী আরব সফরে আহমেদ আল-শারা’র সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের লেভিট বলেন, “এটি আরেকটি প্রতিশ্রুতি পূরণ। ট্রাম্প যা বলেছেন, তাই করেছেন।”

 

এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নও সিরিয়ার ওপর বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। তবে, এখনো সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ এবং আল-শারা নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই তালিকা নিয়ে তারা পুনর্বিবেচনা করছে।