রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার

গাজীপুরে জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যা


Farid-Sarkar

গাজীপুরের শ্রীপুরে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) এক নেতাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ফরিদ সরকার (৪১) শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের কেবিএম ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ফরিদ সরকার গোসিংগা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে।

নিহতের বাবা জামাল উদ্দিন সরকার জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে ফরিদ ইটভাটায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। পরে মোবাইল ফোনে কল করে তাকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়। ফরিদ ওই ইটভাটায় মাটি সরবরাহের কাজ করতেন। পরে এক স্বজনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ফরিদ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ইটভাটায় গিয়ে তিনি দেখেন, ফরিদ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইটভাটার কর্মচারী জাকির হোসেন ও মিনারুল ইসলাম জানান, রাত ২টার দিকে তারা ইটভাটায় কাজ করছিলেন। রাত ৩টার দিকে চারজন ব্যক্তি রামদা ও লাঠি নিয়ে এসে ফরিদ সরকারকে কুপিয়ে ও পিটাতে শুরু করে। ভয়ে তারা ভাটার পাশে নিজেদের থাকার কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে লুকিয়ে পড়েন। তখন শুধু ফরিদের চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনা যায়।

কেবিএম ব্রিকসের ব্যবস্থাপক প্রদীপ সরকার বলেন, ভোররাত ৪টার দিকে চিৎকার ও কথা কাটাকাটির শব্দ শুনে অফিস কক্ষ থেকে বের হয়ে তিনি একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

গোসিংগা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম রফিক জানান, ইটভাটার ম্যানেজার ফোন করে ফরিদ সরকারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার বিষয়টি জানান। পরে তিনি ফরিদের স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমদ বলেন, ইটভাটায় হত্যাকাণ্ডের কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত এখনই বলা যাচ্ছে না। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।