রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক বিনোদন ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

সেরা চলচ্চিত্রের খেতাব পেল ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ 


one battle after another

চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক বিরল ও অভূতপূর্ব কীর্তি গড়েছে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের নতুন সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত এই ছবিটি ২০২৬ সালের চলচ্চিত্র দুনিয়ার প্রধান সব সমালোচক পুরস্কার একাই নিজের ঝুলিতে পুরে নিয়েছে। 

ন্যাশনাল বোর্ড অফ রিভিউ, ক্রিটিকস চয়েস, দ্য গথামস এবং ন্যাশনাল সোসাইটি অফ ফিল্ম ক্রিটিকস – এমন কোনো সম্মানজনক স্বীকৃতি নেই যা এই সিনেমাটি অর্জন করেনি। পল থমাস অ্যান্ডারসনের অসাধারণ নির্মাণশৈলী এবং ডিক্যাপ্রিওসহ অন্যান্য গুণী অভিনেতাদের রসায়ন ছবিটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা সমসাময়িক চলচ্চিত্র শিল্পে এক নতুন মাইলফলক।

সমালোচকদের দৃষ্টিতে এই সিনেমাটি কেবল বিনোদন নয় বরং বর্তমান বিশ্বের সমাজ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক নিখুঁত আয়না। সমাজে মানুষের বিচ্ছিন্নতা এবং ছোট ছোট দলে বিভক্ত হওয়ার যে প্রবণতা এখন দৃশ্যমান, তার একটি গভীর মানসিক চিত্র এই ছবিতে ফুটে উঠেছে। 

বিশেষ করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটটি শিল্প বিশেষজ্ঞদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়েছে। যদিও কিছু বিশ্লেষক সিনেমার গতির ক্ষেত্রে কিছুটা তাড়াহুড়োর ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবুও শিল্পের বিচারে একে একটি কালজয়ী কাজ হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে।

তবে সমালোচকদের কাছে শতভাগ নম্বর পেলেও সাধারণ দর্শকদের মাঝে ছবিটিকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। প্রেক্ষাগৃহে ‘সিনার্স’ কিংবা ‘হ্যামনেট’-এর মতো ছবিগুলো দর্শকরা বেশি উপভোগ করলেও, গুণগত মানের বিচারে সমালোচকেরা ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’-কেই এগিয়ে রেখেছেন। এই বৈপরীত্য চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তাদের মতে, চলচ্চিত্র শিল্পকে প্রকৃত অর্থে এগিয়ে নিতে হলে সমালোচকদের স্বীকৃতির পাশাপাশি দর্শকদের অভিরুচিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ দর্শকই শেষ পর্যন্ত সিনেমার আসল প্রাণশক্তি।