
নাঙ্গলকোট থানা (ইনসেটে বাম থেকে নিহত নয়ন ও ছালে আহম্মদ)
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলীয়ারা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সালেহ আহম্মদ মেম্বার (৬৫) এবং আবুল খায়ের মেম্বারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন নয়ন (৩০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলীয়ারা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের মেম্বার গ্রুপ ও সালেহ আহম্মদ মেম্বার গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে ঘটনাস্থলেই দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) রাশেদুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বক্সগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আবদুর রশীদ ভূঁইয়া জানান, গত বছরের ৩ আগস্ট একই এলাকায় আলাউদ্দিন নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
তিনি আরও জানান, গত কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। শুক্রবার সকালেও তিনি দুই পক্ষকে ফোন করে সংঘাতে না জড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তা কাজে আসেনি।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে এ বিরোধ দীর্ঘ দিনের। ওই এলাকায় বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।











































