সেহরিতে খাদ্যাভ্যাসের অনিয়মের কারণে অনেকেরই গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া বা প্রচণ্ড ক্লান্তি দেখা দেয়
রমজান মানেই আত্মশুদ্ধি আর সংযমের মাস। তবে দীর্ঘ সময় উপবাসের পর ইফতার ও সেহরিতে খাদ্যাভ্যাসের অনিয়মের কারণে অনেকেরই গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া বা প্রচণ্ড ক্লান্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে সেহরিতে আমরা কী খাচ্ছি, তার ওপর নির্ভর করে পরের দিনটি কতটা স্বস্তিতে কাটবে। সেহরিতে এমন কিছু খাবার নির্বাচন করা জরুরি যা ধীরগতিতে হজম হবে, শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং এনার্জি লেভেল ঠিক রাখবে।
আজকের ফিচারে থাকছে এমন ৫টি জাদুকরী খাবারের তালিকা, যা আপনাকে সারাদিন রাখবে সতেজ ও প্রাণবন্ত।
লাল চালের ভাত বা ওটস
সেহরির মূল খাবারে জটিল শর্করা বা ‘কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট’ থাকা অপরিহার্য। সাদা চালের ভাতের চেয়ে লাল চালের ভাত বা ওটস অনেক বেশি উপকারী। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা হজম হতে দীর্ঘ সময় নেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে কমে যায় না এবং দুপুর গড়িয়ে গেলেও ক্ষুধা অনুভব হয় না। এটি আপনাকে দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করবে।

সেহরির মূল খাবারে জটিল শর্করা বা ‘কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট’ থাকা অপরিহার্য
টক দই বা মিষ্টি দই
সেহরিতে এক বাটি দই খাওয়া হতে পারে আপনার সবচেয়ে সেরা সিদ্ধান্ত। দই হলো একটি প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিক যা পাকস্থলীকে ঠান্ডা রাখে এবং হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। যারা রোজা রেখে গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য দই মহৌষধ। এছাড়া দইয়ে থাকা প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম হাড়ের শক্তি বজায় রাখে এবং তৃষ্ণা মেটাতে সাহায্য করে।
কলা ও খেজুর
সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীর থেকে অনেক খনিজ উপাদান বেরিয়ে যায়। সেহরিতে একটি কলা খেলে তাতে থাকা পটাশিয়াম পেশির ক্লান্তি দূর করে এবং এনার্জি বুস্ট হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি ১-২টি খেজুর খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং ফাইবার ইফতার পর্যন্ত শরীরে শক্তির জোগান দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে সাহায্য করে।

সেহরিতে উচ্চ জলীয় উপাদান সমৃদ্ধ খাবার রাখুন
শসা বা তরমুজ
পরদিন পানির পিপাসা থেকে বাঁচতে সেহরিতে উচ্চ জলীয় উপাদান সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। শসা বা তরমুজ আপনার শরীরে পানির রিজার্ভার হিসেবে কাজ করবে। তরমুজে প্রায় ৯২% পানি থাকে, যা ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধে দারুণ কার্যকর। এছাড়া লাউ বা পেঁপের মতো সবজি দিয়ে রান্না করা হালকা ঝোল তরকারি পেট শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
ডিম বা সেদ্ধ মাছ
প্রোটিন শরীরের টিস্যু পুনর্গঠনে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তবে সেহরিতে খুব বেশি তেল-মশলাযুক্ত মাংস এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটি গ্যাস্ট্রিক বাড়াতে পারে। এর পরিবর্তে একটি সেদ্ধ ডিম বা হালকা তেলে রান্না করা মাছ বেছে নিন। এটি আপনার পেশিগুলোকে সতেজ রাখবে এবং শরীরের বিপাক প্রক্রিয়াকে ঠিক রাখবে।
সেহরিতে একবারে প্রচুর পানি পান না করে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টাতে বিরতি দিয়ে পানি পান করুন। অতিরিক্ত চা বা কফি সেহরিতে এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ ক্যাফেইন শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে ফেলে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর পর্যাপ্ত বিশ্রামই পারে আপনার রমজানকে আনন্দময় ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে। পরিমিত খাবার খান, সুস্থ থাকুন।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প









































