বৃহস্পতিবার । মার্চ ৫, ২০২৬
সেতু ইসরাত লাইফস্টাইল ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

ইফতারে কেন খেজুর সবচাইতে আদর্শ খাবার?


khejur

ভিটামিন এ, কে, বি-৬ এবং আয়রনের চমৎকার উৎস, যা অল্প সময়ে শরীরের পুষ্টির অভাব পূরণ করে

রমজান মাসে সূর্যাস্তের পর বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান ইফতারের প্রথম উপকরণ হিসেবে খেজুরকে বেছে নেন। এটি কেবল একটি ধর্মীয় ঐতিহ্যই নয়, বরং দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার পর শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি জোগাতে এর রয়েছে অনন্য বৈজ্ঞানিক গুণাগুণ।

তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস
দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার পর শরীর দ্রুত গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে। যুক্তরাজ্যের পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশিরের মতে, খেজুরে থাকা প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে শরীরকে চনমনে করে তোলে। এটি ভিটামিন এ, কে, বি-৬ এবং আয়রনের চমৎকার উৎস, যা অল্প সময়ে শরীরের পুষ্টির অভাব পূরণ করে।

শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা
খেজুর একটি শুকনো ফল হলেও এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট পটাশিয়াম পানির জন্য ‘চুম্বকের’ মতো কাজ করে, যা শরীরের কোষগুলোকে জলীয় উপাদানে ভরপুর রাখতে সাহায্য করে। ইফতারে খেজুরের সাথে পানি পান করলে আলাদা কোনো ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়র প্রয়োজন পড়ে না।

খেজুর

খেজুর ফাইবারের একটি উৎকৃষ্ট উৎস

অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ন্ত্রণ
রমজানে ইফতারে মুখরোচক খাবারের ভিড়ে অনেকেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন, যা ওজন বাড়িয়ে দেয়। ইফতারে কয়েকটি খেজুর খেয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ার যে প্রথা রয়েছে, তা অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত। খেজুরে থাকা ফাইবার হজম হতে শুরু করলে তা মস্তিষ্কে তৃপ্তির সংকেত পাঠায়, ফলে নামাজ পরবর্তী ভারী খাবার গ্রহণের সময় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে আসে।

হজমের সমস্যা দূরীকরণ
রোজায় দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। খেজুর ফাইবারের একটি উৎকৃষ্ট উৎস হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যক্রম সচল রাখে এবং বর্জ্য পদার্থ শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের যে পরামর্শ দেওয়া হয়, তার একটি বড় অংশ খেজুর থেকে মেটানো সম্ভব।

খেজুর পছন্দ না হলে বিকল্প উপায়
বাজারে শত শত প্রকারের খেজুর পাওয়া যায়। কোনোটি নরম, কোনোটি শক্ত বা চিবিয়ে খাওয়ার মতো। সরাসরি খেজুর খেতে ভালো না লাগলে স্মুদি বা শরবতে এটি যোগ করা যেতে পারে। দুধ, দই ও শুকনো ফলের সাথে খেজুর মিশিয়ে তৈরি করা পানীয় সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে টনিকের মতো কাজ করে।

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প