
অভিযুক্ত ‘ধর্ষক’ নূর মোহাম্মদ নূরা (বামে)
নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে তার বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নিহত কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে রাতেই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, এই ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, এবং ধর্ষক নূরার দুই সহযোগী মোহাম্মদ আইয়ুব ও এবায়দুল্লাহ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে একদল বখাটে ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান এই ঘটনার বিচার করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার জন্যও চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে জানা গেছে।
বিচারের দাবি আড়ালে পড়ে যাওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগীর বাবা তার মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়ি যাওয়ার পথে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে পাঁচ যুবক ঐ কিশোরীকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি। পরদিন সকালে স্থানীয়রা সরিষা ক্ষেতে কিশোরীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। স্বজনদের দাবি, পুনরায় গণধর্ষণের পর তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হচ্ছে।










































