বুধবার । মার্চ ৪, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ১ মার্চ ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা: আতঙ্কে প্রবাসীরা, উদ্বেগে স্বজনরা


Iran counter

ফাইল ছবি

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। চলমান উত্তেজনায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থানরত অর্ধকোটির বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। বিভিন্ন দেশে জারি হয়েছে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা সতর্কতা, সীমিত করা হয়েছে অপ্রয়োজনীয় চলাচল।

প্রবাসীরা জানান, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাইরেন বাজলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের শঙ্কার কথা প্রকাশ করছেন।

ওমানে থাকা এক প্রবাসী জানান, শুরুতে পরিস্থিতি ততটা ভয়াবহ মনে না হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে আতঙ্ক বেড়েছে। কোম্পানি থেকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আরব আমিরাতে অবস্থানরত আরেক প্রবাসী বলেন, সবাই একসঙ্গে থাকছেন এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলছেন, তবে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা বেশি উদ্বিগ্ন।

এদিকে দেশে থাকা স্বজনদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে চোখ রেখে তারা প্রিয়জনদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেকেই নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ করে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৬০টির বেশি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন। অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছেন অনেকে, কেউ আবার ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে।

সরকার জানিয়েছে, আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো প্রবাসীদের সতর্ক থাকতে বলেছে এবং জরুরি হটলাইন চালু করেছে।

কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাত ও ইরাকে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তেহরানে বাংলাদেশ মিশনও কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেখানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলোর তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আটকে পড়া যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।