
ফাইল ছবি
দেশে ‘মব কালচার’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই মব সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয় এবং কারও ওপর দলবদ্ধভাবে হামলা বা নির্যাতন চালানো হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক জানতে চান, সরকার মব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনাটি মব নয়; বরং এটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ। ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নাকি অন্য কারণ রয়েছে, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খতিয়ে দেখছে। অপরাধ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা যে কোনো অপরাধীকে আইনের বাইরে রাখা হবে না। ধাপে ধাপে সবাইকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যটনের কথা উঠলেই প্রথমেই কক্সবাজারের নাম আসে। তাই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে আরও পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকত এলাকায় গড়ে ওঠা সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি পুরো শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সক্রিয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করা হবে।
মাদক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হলে উখিয়া-টেকনাফ রুট বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। মাদক উৎপাদন, পরিবহন ও বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া বন্ধ করতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় আসামিদের দেশে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরী ও আলমগীর ফরিদসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





































