
এই প্রশ্নের উত্তর এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—আরব বিশ্বের জন্য প্রকৃত হুমকি কে? ইরান, নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক এখন আঞ্চলিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক শক্তির দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
গত এক মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি খ্রিস্টান পশ্চিমা শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা অখ্রিস্টান বিশ্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য এই সংঘাতকে ‘আর্মাগেডনের যুদ্ধ’ বলেও উল্লেখ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়েছে।
সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ প্রচারণায় ধর্মীয় ও আদর্শিক ভাষা ব্যবহারের প্রবণতা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি মার্কিন রাজনীতিতেও বিভাজন তৈরি করেছে। একদিকে রয়েছেন ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান ও জায়নবাদী গোষ্ঠী, যারা ইরান ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেন; অন্যদিকে ডানপন্থি ও বামপন্থি কিছু রাজনীতিক মনে করেন, ইসরায়েলের স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে।
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ইসরায়েলের নীতিগুলো আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। তাদের মতে, ওয়াশিংটন আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানে নিতে উৎসাহিত করছে।
এদিকে আরব দেশগুলোর প্রতিক্রিয়াও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওমান ছাড়া প্রায় কোনো আরব সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানায়নি। এমনকি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ এরদোয়ান ইরানের প্রতি সমবেদনা জানালেও অনেক আরব সরকার নীরব থেকেছে।
সমালোচকদের মতে, উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে ওই দেশগুলো কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের অংশ হয়ে পড়েছে। এসব ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হওয়ায় অঞ্চলটি আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, যদি এসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি না থাকত, তাহলে ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকত। তাদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য প্রকৃত হুমকি কে—এই প্রশ্নের উত্তর এখন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট, ইরান এবং আরব দেশগুলোর সম্পর্ক আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।









































