
তার মতে, চলমান যুদ্ধ মাসের পর মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে
মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনও প্রস্তুত নয়। ইরান কৌশলগত এই জলপথে অবরোধ অব্যাহত রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বলেন, বাজারে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে তা মূলত স্বল্পমেয়াদি বিঘ্ন। তার মতে, চলমান যুদ্ধ মাসের পর মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হুমকি দিলেও ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছে। পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
ক্রিস রাইট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্বল্পমেয়াদি কষ্ট, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি লাভ বয়ে আনবে। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেই সামর্থ্য ধ্বংস করছে যার মাধ্যমে তারা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে মার্কিন নৌবাহিনী তেলবাহী জাহাজগুলোকে উপসাগর দিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যাবে। তবে রাইট জানান, এই পদক্ষেপ এখনই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের সামরিক সম্পদগুলো ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং সেই সক্ষমতা তৈরির শিল্পভিত্তি ধ্বংসের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। লিখিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জনগণের ইচ্ছা হলো কার্যকর ও প্রতিরোধমূলক প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাওয়া। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার কৌশলও অব্যাহত রাখতে হবে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেলবাহী জাহাজকে নৌ-এসকর্ট দেয়, তাহলে মার্কিন বাহিনীর ওপর আঘাত হানার জন্য তারা প্রস্তুত।
এই উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার প্রণালির কাছাকাছি তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে কখনও ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে এবং কয়েকদিন ধরে ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে।
তেলের দাম বাড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র আর্থিকভাবে লাভবান হয়।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা









































