বুধবার । মার্চ ১৮, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার

শোলাকিয়ায় ১৯৯তম ঈদ জামাত ১০টায়, নিরাপত্তায় ১১০০ পুলিশ


sholakia

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান এখন ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত

দেশের বৃহত্তম ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান এখন ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বরাবরের মতো এবারও কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগমকে কেন্দ্র করে মাঠ ও আশপাশ এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মাওলানা জুবায়ের ইবনে আব্দুল হাই। প্রতিবছরের মতো এবারও শোলাকিয়া এক্সপ্রেস নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ রুটে।

২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার স্মৃতি মাথায় রেখে এবারও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, প্রায় ১ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে ৫ প্লাটুন বিজিবি। পুরো এলাকাকে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার বিশেষ দিকগুলো হলো:

  • প্রযুক্তিগত নজরদারি: মাঠজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ছাড়াও ৪টি ড্রোন এবং ৬টি ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

  • ওয়াচ টাওয়ার ও স্নাইপার: র‍্যাব ও পুলিশের পক্ষ থেকে ৬টি ওয়াচ টাওয়ার এবং স্নাইপার টিম মোতায়েন থাকবে।

  • জরুরি দল: বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, সুইপিং টিম এবং কুইক রেসপন্স টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এছাড়াও ৬টি অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস নিয়োজিত থাকবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের কেবল টুপি, জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন নিয়ে মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ছাতা, ব্যাগ বা অন্য কোনো বস্তু নিয়ে মাঠে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মাঠের প্রবেশপথে একাধিক চেকপোস্ট ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হবে।

প্রায় ৭ একর আয়তনের এই মাঠে ২৬৫টি কাতারে একসঙ্গে সোয়া লাখেরও বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। জনশ্রুতি আছে, শাহ সুফি সৈয়দ আহমদের মোনাজাতে ‘সোয়া লাখ’ মুসল্লির উল্লেখ থেকে এই ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি। ১৯৫০ সালে দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ এই ঈদগাহের জন্য জমি ওয়াকফ করেছিলেন। ২০১৬ সালের হামলার ক্ষত থাকলেও শোলাকিয়ার প্রতি ধর্মপ্রাণ মানুষের টানে কোনো ভাটা পড়েনি।

ঈদগাহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানিয়েছেন, অজু, গোসল ও নামাজের সব ধরনের ভৌত প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।