বুধবার । এপ্রিল ১৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ন
শেয়ার

বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বিরোধীদলের কাঁধে চেপে বসেছে: প্রধানমন্ত্রী


tareque

টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধীদলের কাঁধে চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করেছিলেন, তখন তৎকালীন বিরোধী দল বলেছিল বিএনপিকে এক মিনিটেও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। আমরা দেখছি বর্তমান বিরোধী দলও একই পথ অনুসরণ করছে। আসলে স্বৈরাচারের ভূত এদের ওপর আছর করেছে।”

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা এখন জুলাই সনদ নিয়ে সরব, তারা শুরুতে এটি সই করতে কেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল? বিএনপিই প্রথম এই সনদে সই করে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেছে।

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি যে জুলাই সনদে সই করেছে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এর কোনো নড়চড় হবে না।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা বিএনপির জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি— যেমন খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

সংস্কার নিয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, বিএনপিই প্রথম সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। তিনি বলেন, “২০১৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সংস্কারের প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে আন্দোলনের সময় ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাবগুলো দিচ্ছে, তার ৮৫ শতাংশই বিএনপির দেওয়া প্রস্তাবের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রের নিয়মই হচ্ছে মতামতের ভিন্নতা। আমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু সেই দ্বিমত নিরসন হতে হবে আলোচনার মাধ্যমে।”

বক্তব্যের শেষাংশে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র ঠিকানা এবং শেষ আশ্রয়। এ দেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। তাই এই দেশটিকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। ইনশাআল্লাহ, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”