
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।। ছবি: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়াতে রাজি নয়—তবে এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে তারা রেহাই পাচ্ছে না।
বিশ্বের বিভিন্ন নেতা, যারা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলার বিরোধিতা করেছেন, তারা এখন দ্বিধায় পড়েছেন। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ, অন্যদিকে নিজ দেশের জনগণের তীব্র যুদ্ধবিরোধী মনোভাব—এই দুইয়ের মাঝে তারা আটকে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সম্পর্কের গতিপথ বদলে দিচ্ছে। আগে যারা ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করতেন, তারা এখন প্রকাশ্যে সমালোচনা করছেন এবং দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এর পেছনে শুধু মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা নয়, বরং যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক চাপও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিও মেলোনি পোপের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন। একইভাবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণে জ্বালানি খরচ বাড়ায় তিনি ‘বিরক্ত’।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন একটি ‘প্রতিকূল’ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে ২.৫ শতাংশে নামতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় কম।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ০.৮ শতাংশে নামানো হয়েছে, যা স্টারমারের সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
জাপানও একই চাপে রয়েছে। দেশটির সরকার জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এমনকি যুদ্ধ শুরুর আগেই অনেক মিত্র দেশে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কম ছিল। এক জরিপে দেখা যায়, বেশিরভাগ দেশে তার অনুমোদনের হার ৩৫ শতাংশের নিচে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দূরত্ব শুধু সাময়িক নয়—এটি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জোটগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ন্যাটোর মতো জোটের ক্ষেত্রে।
ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, একতরফা শক্তি প্রয়োগই ২১শ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তবে মিত্র দেশগুলো তার এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সবসময় একমত নয়, বিশেষ করে এমন যুদ্ধে যেখানে তাদের জনগণের সমর্থন নেই।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পবিরোধী অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। তার নেতৃত্বে কানাডার রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশটিতে কার্নির ক্ষমতা আরও পোক্ত হয়েছে।
ইউরোপেও পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের নেতা ভিক্টর আরবান সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, যা ট্রাম্পপন্থী রাজনীতির জন্য ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এক জটিল বাস্তবতার মুখে পড়েছে। তারা ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধে যেতে পারছে না, আবার তার যুদ্ধনীতিকে সমর্থন করাও রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
ফলে, এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না—এটি বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে।
সিএনএন অবলম্বনে
‘আশা’ থাকবেই







































