বৃহস্পতিবার । এপ্রিল ৩০, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক প্রবাস ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: অভিযুক্তের অতীত আচরণ নিয়ে নতুন তথ্য


Hasim

দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়েহ

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার তিন বছর আগে, ২০২৩ সালে তার অস্বাভাবিক ও সহিংস আচরণ নিয়ে পরিবারের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল একটি পুলিশ প্রতিবেদনে।

২০২৩ সালের ৯ মে পারিবারিক এক ঘটনায় আবুগারবিয়েহ তার ভাইয়ের সঙ্গে ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ নিয়ে তর্কে জড়ান। পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, তর্কের একপর্যায়ে তিনি তার ভাইকে ঘুষি মারেন, এতে ভাই মাটিতে পড়ে যান। একই ঘটনায় তিনি তার মাকেও পেছন থেকে লাথি মারেন, ফলে তিনিও পড়ে যান।

ঘটনার পর পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে আবুগারবিয়েহ বলেন, ‘আমি আমার ভাইকে সৃষ্টি করেছি, আমি তার ঈশ্বর’ এবং ‘এটা আমার এখানে প্রথম জীবন’—যা তার মানসিক সুস্থতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ওই ঘটনায় তাকে সাধারণ মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৭২ ঘণ্টার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে সে সময়ে জানানো হয়েছিল, তার কোনো আনুষ্ঠানিক মানসিক রোগ নির্ণিত না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার আচরণ খারাপের দিকে যাচ্ছিল।

পরবর্তীতে মামলাটি খারিজ হলেও আদালত তাকে তার ভাইয়ের কাছাকাছি যাওয়া নিষিদ্ধ করে। ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী আবুগারবিয়েহের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহতরা হলেন ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। তারা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ফ্লোরিডার ট্যাম্পা শহরে নিখোঁজ হন। এক সপ্তাহ পর একটি সেতু থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃষ্টির ক্ষেত্রেও হত্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও উদ্ধার হওয়া আরেকটি মরদেহ এখনো তার বলে নিশ্চিত করা হয়নি।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার আগে আবুগারবিয়েহ অনলাইনে বিভিন্ন প্রশ্ন খুঁজেছেন—যার মধ্যে ছিল কীভাবে একটি মানবদেহ গোপন করা যায়। পাশাপাশি তিনি অ্যামাজনন থেকে ডাক্ট টেপ, ট্র্যাশ ব্যাগ, জ্বালানি তেল, আগুন ধরানোর উপকরণ ও কয়লা অর্ডার করেছিলেন। এমনকি একটি নকল দাড়িও কিনেছিলেন বলে তার কেনাকাটা সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তার পরিবারের এক সদস্য আদালতে দেওয়া চিঠিতে দাবি করেন, গত কয়েক বছরে চিকিৎসায় ব্যবহৃত গাঁজা ব্যবহারের পর থেকে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। আগে তিনি শান্ত মানুষ ছিলেন, কিন্তু পরে তার মধ্যে রাগ ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়।

এই ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।