
আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে এমন কিছু ভেষজ, যা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই শরীরকে করে রোগমুক্ত
আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর হঠাৎ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। এই সময়টা যতটা না রোমান্টিক, তার চেয়েও বেশি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় স্বাস্থ্যের জন্য। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমে ঘরে ঘরে এখন হাঁচি-কাশির রাজত্ব। নাক বন্ধ হয়ে দম বন্ধ হওয়া ভাব কিংবা গলার ভেতর কাঁটার মতো বিঁধতে থাকা ব্যথা—এগুলো বর্ষার খুব চেনা উপদ্রব। তবে আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে এমন কিছু ভেষজ, যা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনার শরীরকে করবে রোগমুক্ত।
তুলসি পাতা: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে তুলসিকে বলা হয় ‘ভেষজের রানি’। এতে থাকা ইউজেনল (Eugenol) এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
এটি বুকের জমানো কফ বের করে দেয় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
এক মুঠো তুলসি পাতা এক কাপ পানিতে ফুটিয়ে অর্ধেক করে নিন। সেই পানির সাথে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে দিনে দুবার পান করুন।

বুকের জমানো কফ বের করে দেয় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে তুলশি পাতা
থানকুনি পাতা: গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে বেড়ে ওঠা থানকুনি কেবল হজমে সাহায্য করে না, এটি শরীরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
বর্ষায় ভাইরাসজনিত জ্বরের বিরুদ্ধে লড়তে থানকুনি শরীরকে শক্তিশালী করে তোলে। এটি রক্ত পরিশুদ্ধ করে শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে।
সকালে খালি পেটে ৩-৪টি ধোয়া থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। যারা কাঁচা খেতে পারেন না, তারা হালকা গরম ভাতে মেখেও খেতে পারেন।
আদা, গোলমরিচ ও লবঙ্গ: গলা ব্যথায় আদা আর লবঙ্গের চেয়ে ভালো বন্ধু আর নেই। আদার ‘জিঞ্জেরল’ উপাদানটি প্রাকৃতিক পেইন কিলার হিসেবে কাজ করে।
আদা কুচি করে সামান্য লবণ দিয়ে চিবিয়ে খান। অথবা আদা-লবঙ্গ মেশানো চা পান করলে নিমেষেই গলা ব্যথা উধাও হবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে যেভাবে
প্রাকৃতিক এসব উপাদানে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রপার্টিজ। এগুলো শরীরের শ্বেত রক্তকণিকাকে উদ্দীপিত করে, যা বাইরের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের আক্রমণ রুখে দেয়। পাশাপাশি এই ভেষজগুলো শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে বাড়তি ক্লান্তি দূর করে শরীরকে চনমনে রাখে।

সতর্কতা
প্রকৃতিই নিরাময় দেয় ঠিকই, তবে ব্যবহারের সঠিক নিয়ম না জানলে হিতে বিপরীত হতে পারে:
অতিরিক্ত তুলসি পাতা রক্ত পাতলা করে দিতে পারে, তাই দিনে ২-৩ বারের বেশি ভেষজ চা পান না করাই ভালো।
গর্ভবতী নারী কিংবা এক বছরের নিচের শিশুদের যেকোনো ঘরোয়া টোটকা দেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অতিরিক্ত ফুটন্ত পানিতে কখনোই মধু মিশাবেন না; এতে মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয়। পানি কুসুম গরম অবস্থায় আসলে তবেই মধু মেশান।
যদি থানকুনি বা অন্য কোনো পাতায় আপনার এলার্জি থাকে, তবে তা এড়িয়ে চলুন।
বৃষ্টির সময়টাকে নিজেকে গুটিয়ে না রেখে বরং সতর্ক থাকুন। প্রাকৃতিক উপাদানে ভরসা রাখলে কেবল সর্দি-কাশিই নয় বরং সারা বছরই আপনার শরীর থাকবে সতেজ ও প্রাণবন্ত। মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। তাই বৃষ্টির দুপুরে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা তুলসি-আদা চা কেবল তৃপ্তিই নয়, আপনার সুস্বাস্থ্যেরও গ্যারান্টি।
বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প









































