বুধবার । মে ২০, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ২০ মে ২০২৬, ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

‘মবস্টারদের নায়ক বানানোর দিন থেকেই আ. লীগের ফেরার পথ তৈরি হয়েছে’


Mahfuz Alam

ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান হঠাৎ করে ঘটেনি; বরং ধারাবাহিক রাজনৈতিক ভুল, মবতন্ত্রের বিস্তার, সাংস্কৃতিক পরিসরে হামলা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে বিসর্জন দেওয়ার মধ্য দিয়েই দলটির ‘ফিরে আসা’ নিশ্চিত হয়েছে। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ নিয়ে বিস্তৃত মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ ওই পোস্টে মাহফুজ আলম বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি এক ধরনের ‘ধর্মতত্ত্ব’, আর সেই বিশ্বাসই আবার সমাজে জায়গা করে নিয়েছে। তার মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দাঁড় করানো হয়েছিল, তখন থেকেই আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি হতে শুরু করে।

তিনি অভিযোগ করেন, আইনের শাসনের পরিবর্তে যখন ‘মবের শাসন’ প্রতিষ্ঠা পায় এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় একদল মানুষ নীরব সমর্থন দেয়, তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মাজারে হামলা, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দেওয়া এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলোর সময় সমাজের একটি অংশের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মাহফুজ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার-সমর্থিত ডানপন্থার উত্থান এবং ‘মবস্টারদের’ নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তার মানুষদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, এটিও আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের অন্যতম কারণ।

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। তার দাবি, সরকার রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে ক্রমে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোয় পরিণত হয়েছিল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা চলে গিয়েছিল ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-নির্ভর একটি গোষ্ঠীর হাতে। তার অভিযোগ, এই গোষ্ঠীর অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘গোপন সমর্থক’ ছিলেন এবং জুলাই আন্দোলনের আদর্শের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

জুলাই ঘোষণাপত্র ও সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মাহফুজ আলম বলেন, যখন এসব বিষয় আমলাতন্ত্র ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক দরকষাকষির অংশে পরিণত করা হয়, তখনই আওয়ামী লীগের ফিরে আসার ভিত্তি আরও শক্ত হয়।

শিক্ষার্থীদের ভূমিকায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ছাত্রসমাজ বিপ্লবী সাংগঠনিক শক্তিতে রূপ নেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে ‘মব সংস্কৃতি’র দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চার বদলে সংঘবদ্ধ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায়।

সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাহফুজ আলম। তার মতে, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে পরিকল্পিত হামলা, নতুন মিডিয়ার অনুমোদনে বাধা এবং জাতীয়তাবাদের নামে রক্ষণশীল সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহ দেওয়া—এসবই আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানের পরিবেশ তৈরি করেছে।

এ ছাড়া কমিশন, ট্রাইব্যুনাল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যক্তিদের পাশ কাটিয়ে অন্যদের ক্ষমতায় আনার ঘটনাকেও তিনি সমালোচনা করেন।

পোস্টের শেষদিকে কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মাহফুজ আলম লেখেন, “মূল কথাই বলা হয়নি—লীগ ফেরত আসবে, কারণ সব দোষ মাহফুজ আলমের।”