মঙ্গলবার । জুন ১৬, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় মাদারগঞ্জের ২ যুবক নিহত


mofiz-arif

নিখোঁজ মফিজ ও আরিফ। ছবি: সংগৃহীত

জীবিকার তাগিদে ভালো কাজের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের প্রলোভনে পড়ে দেশটিতে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে হয়েছিল। গত ১৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে পরিবার। এই ঘটনায় দুই যুবকের গ্রামের বাড়িতে এখন চলছে মাতম।

নিহত দুই যুবক হলেন— মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল ওরফে মফিজ (২৩) এবং সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসাইন (৩০)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান মাফুল ও আরিফ। মাফুলকে চাঁদপুরের এবং আরিফকে স্থানীয় দুই দালালের মাধ্যমে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার কথা বলা হলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতারণার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে পরিবারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন তারা। স্বজনদের দাবি, দালাল চক্র মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, সর্বশেষ গত ২৯ মে ওই দুই যুবকের সঙ্গে পরিবারের শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে স্বজনরা জানতে পারেন যে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ওই দুই যুবক যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হয়েছেন।

ছেলের মৃত্যুর খবরে মাফুলের মা মাহফুজা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার ছেলে কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল, যুদ্ধ করতে না। প্রতারণা করে আমার ছেলেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হলো। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফেরত চাই এবং জড়িত দালালদের কঠিন বিচার চাই।’

অন্যদিকে আরিফের বাবা তারা মিয়া জানান, স্থানীয় দালাল আমিনুর ইসলাম সুজার মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে আরিফকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে ছেলেকে প্রাণ হারাতে হলো।

এই বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও দূতাবাসের মাধ্যমে না গিয়ে এভাবে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে মরদেহের সন্ধান ও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’