বুধবার । জুন ২৪, ২০২৬
বিজনেস ডেস্ক বিজনেস ২৩ জুন ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন, কমেছে রুপাসহ অন্যান্য ধাতুর দাম


gold-silver

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী উত্থানে বড় ধাক্কা খেয়েছে সোনার বাজার। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন ইঙ্গিতের পর ডলারের চাহিদা বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১.৮ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১১৬ দশমিক ০৭ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। দিনের এক পর্যায়ে দাম কমে ৪ হাজার ৯০ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়ায়, যা গত ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে মার্কিন সোনার ফিউচার মূল্য ১.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৩ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও ইরান সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর মুদ্রানীতির আভাস দিয়েছে ফেড। ফলে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার পর তেলের দামে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল, তা সোনার বাজারে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভাঞ্জেলিস্তা বলেন, ফেডের সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির কারণে ডলারের বাজার শক্তিশালী হয়েছে, যা সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজারের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে ডলারের অবস্থান ও ফেডের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।

গত সপ্তাহে ফেডের নীতিনির্ধারকদের প্রায় অর্ধেকই চলতি বছরে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এর পর থেকেই মার্কিন ডলার সূচক গত বছরের মে মাসের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

ডলারের শক্ত অবস্থানের কারণে শুধু সোনাই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ৪.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৬২ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ২.৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৭ দশমিক ৩৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৪৯ দশমিক ১৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে দেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা।

অন্যদিকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ২৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০৮ টাকায়।