মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৭ জুলাই ২০২৫, ৪:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

গাজায় শিশু হত্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে ইউরোপীয় কোম্পানি ‘এমবিডিএ’র তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র


European missile group MBDA selling parts for bombs that have killed children in Gaza

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

গাজায় শিশু হত্যায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমবিডিএ (MBDA) এর বোমা ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পয়ানিটি এমন বোমার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ তৈরি করছে, যেগুলো হাজার হাজার ইউনিট ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে এবং বহু বিমান হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে দেখা গেছে এসব বোমার আঘাতে অসংখ্য ফিলিস্তিনি শিশু ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন।

দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

দ্য গার্ডিয়ান, ফ্রান্সের স্বাধীন গণমাধ্যম ডিসক্লোজ (Disclose) এবং নেদারল্যান্ডসের ফলো দ্য মানি (Follow the Money)—এই তিনটি সংস্থার এক যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব বিস্ফোরক তথ্য।

তারা দেখিয়েছে: GBU-39 নামে একটি বোমা, যা বোয়িং কোম্পানি তৈরি করে, সেটিতে ব্যবহৃত হয় এমবিডিএর তৈরি “উইংস” (ডানা)।

এই উইংস যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের একটি কারখানায় তৈরি হয়, যেটি এমবিডিএর মালিকানাধীন।

এই ডানা বোমা উৎক্ষেপণের পর খুলে যায়, এবং লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার জন্য গাইড করে।

এমবিডিএ ইনকোর্পোরেটেড (ইউএসএ) এর আয় পাস হয় এমবিডিএ ইউকে (হ্যার্টফোর্ডশায়ার, ইংল্যান্ড) এর মাধ্যমে, তারপর তা মূল কোম্পানি এমবিডিএ গ্রুপের (ফ্রান্স)-এর কাছে পৌঁছায়।

২০২৩ সালে এমবিডিএ প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড লভ্যাংশ বিতরণ করেছে তাদের তিন মালিকানাধীন অংশীদারদের BAE Systems (বে সিস্টেম – যুক্তরাজ্য), Airbus (এয়ারবাস – ফ্রান্স) এবং Leonardo (লিওনার্দো – ইতালি) এর মাঝে।

শিশু হত্যায় GBU-39 ব্যবহারের প্রমাণ হিসেবে অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে ২৪টি ঘটনায় GBU-39 বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে শিশুসহ বহু সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এসব হামলার বেশিরভাগ হয়েছে রাতে, পূর্বাভাস ছাড়া, স্কুল ও টেন্ট ক্যাম্পে, যেখানে উদ্বাস্তু পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল। জাতিসংঘ ও Amnesty International এসব ঘটনাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এমবিডিএ (MBDA) নিশ্চিত করেছে, তারা বোয়িংয়ের সঙ্গে উইংস সরবরাহের চুক্তিতে আবদ্ধ। তারা বলেছে:“আমরা যেসব দেশে কাজ করি, সেসব দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য আইন মেনেই আমরা পরিচালনা করি, এবং সব দেশেই রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে।”

এখন বড় প্রশ্ন হলো যুদ্ধ থেকে কার লাভ?

এই ঘটনাটি তুলে ধরেছে: মানবিক বিপর্যয় থেকে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর লাভ কীভাবে হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকার কিছু অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করলেও, আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে এখনও ফাঁক রয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি অস্ত্রের অংশ বা একটি কোম্পানি নয়—সম্পূর্ণ অস্ত্র বাণিজ্য ব্যবস্থার নৈতিকতা, নিয়ন্ত্রণ, ও মানবাধিকারের প্রশ্ন।

ফিলিস্তিনে শিশু হত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার দায় এড়ানো কতটা সম্ভব, সে প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে।