মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৮ জুলাই ২০২৫, ৮:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ভারতের সঙ্গে শিগগিরই শুল্ক চুক্তির ইঙ্গিত ট্রাম্পের


ভারতের সঙ্গে শিগগিরই একটি নতুন শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আরেকটি বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোচ্ছি, আর সেটা সম্ভবত ভারতের সঙ্গেই হবে।” তিনি জানান, এই চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল এখন ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছে।

ইকোনমিক টাইমস-এর খবরে ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে বলা হয়, ভারত ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় কম হারে শুল্ক সুবিধা চায়। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বেশি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনই ভারতের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে ১৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছিল, আর ভারতের ক্ষেত্রে তা ২০ শতাংশের নিচে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, তারা আমাদের নিজেদের বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে, যেটা আগে ছিল না। সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভারতও এখন সেই পথেই হাঁটছে। আমাদের পণ্যের জন্য ভারতের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ছে। অতীতে এই সুযোগ আমরা পাইনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, “আগে আমাদের লোকজন এই বাজারে পৌঁছাতেই পারত না। কিন্তু এখন শুল্কনীতির বদলে সেই বাধা দূর হচ্ছে।”

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল সম্প্রতি জানিয়েছেন, আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হচ্ছে, প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। তবে ভারতের জন্য কৃষি ও দুগ্ধ শিল্প অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই দুটি খাতে শুল্ক ছাড় নিয়ে দেশটি এখনও অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য যেকোনো “মিনি” বা “আন্তর্বর্তী” চুক্তির বাইরে থাকতে পারে এই দুই খাত। অতীতেও ভারত তার দুগ্ধ শিল্পকে রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে থেকেছে।

ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক (যথাক্রমে ৫০% এবং ২৫%) এখনো দুই দেশের মধ্যে বিরোধের বিষয় হয়ে রয়েছে। এসব ইস্যুতে ভারত ইতোমধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) দ্বারস্থ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৯২০ কোটি ডলার।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ৪ হাজার ১৮০ কোটি ডলারের পণ্য ভারতে রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৪ শতাংশ বেশি। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ৮ হাজার ৭৪০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে ভারত থেকে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ বেশি।