শনিবার । মে ২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে তিন মুসলিম দেশ


islamic-jot

ছবি: সংগৃহীত

আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং ক্রমবর্ধমান সহিংসতা মোকাবিলার লক্ষ্যে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর তিন দেশ এ বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রাজা হায়াত হারাজ।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হারাজ বলেন, প্রস্তাবিত এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি গত বছর ঘোষিত পাকিস্তান–সৌদি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে আলাদা। চুক্তিটি কার্যকর করতে হলে তিন দেশের পূর্ণ ঐকমত্য প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী বলেন, ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিটি বর্তমানে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। খসড়া চুক্তি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক—তিন দেশের কাছেই রয়েছে এবং গত প্রায় ১০ মাস ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, তিন দেশের মধ্যে আলোচনা হলেও এখনো কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক অবিশ্বাস থেকে বিভাজন ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়, যা বহিরাগত শক্তির আধিপত্য, যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদের সুযোগ সৃষ্টি করে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

ফিদান আরও বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে সব আঞ্চলিক দেশকে একসঙ্গে বসে একটি সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করতে হবে। পারস্পরিক আস্থা থাকলে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দৃষ্টিভঙ্গিও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার দিকে, যদিও তিনি সরাসরি পাকিস্তান বা সৌদি আরবের নাম উল্লেখ করেননি।

এর আগে ব্লুমবার্গ জানায়, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্টে (এসএমডিএ) যোগ দিতে তুরস্ক উন্নত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। তবে রাজা হায়াত হারাজ স্পষ্ট করে বলেন, প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় খসড়া চুক্তিটি এসএমডিএ থেকে আলাদা।

পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। তুরস্ক পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য করভেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করেছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর এফ–১৬ যুদ্ধবিমান আধুনিকীকরণে সহায়তা করেছে এবং ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, দেশটি একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও যুদ্ধবিমান রপ্তানি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানের চাহিদা বেড়েছে এবং অনেক দেশই এসব বিমান কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে।

এর আগে প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রাজা হায়াত হারাজ বিবিসিকে জানান, জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে পাকিস্তান বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে।