বৃহস্পতিবার । মার্চ ৫, ২০২৬
সেতু ইসরাত লাইফস্টাইল ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার

কাজে মন বসছে না? একঘেয়েমি ঝেড়ে ফেলে হয়ে উঠুন সুপার প্রোডাক্টিভ


 

Work cover

সকাল ৯টা থেকে ৫টা একই ডেস্ক, একই রুটিন আর ডেডলাইনের অন্তহীন তাড়া। একটা সময় পর কাজে একঘেয়েমি কিংবা বিরক্তি আসা বর্তমান কর্পোরেট জীবনের এক সাধারণ চিত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মনোযোগের অভাব বা অনীহা কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এর পেছনে কিছু মানসিক ও শারীরিক কারণ ছাড়াও অনেক সময় প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনাও দায়ী থাকে। 

কেন হয় এই মনোযোগের ঘাটতি ও বিরক্তি?

  • পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব: রাত জেগে কাজ বা অপূর্ণ ঘুম মনোযোগ কমিয়ে দেয় কয়েক গুণ।
  • অতিরিক্ত কাজের চাপ ও লোকবল সংকট: বর্তমান কর্পোরেট জগতে খরচ কমাতে অনেক প্রতিষ্ঠানেই প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে একজনের ওপর কয়েকজনের কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়। এই অতিরিক্ত ‘ওয়ার্ক লোড’ যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন কর্মীর কর্মক্ষমতা ও মনোযোগ উভয়ই দ্রুত কমতে থাকে। 
  • মানসিক বার্নআউট: বিরামহীন কাজ এবং ব্যক্তিগত সময়ের অভাব কর্মীকে মানসিকভাবে নিঃস্ব করে দেয়। যখন কেউ বুঝতে পারে তার শ্রমের তুলনায় কাজের চাপ আকাশচুম্বী, তখন অবচেতনভাবেই কাজের প্রতি অনীহা তৈরি হয়।
  • মাল্টিটাস্কিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব: একসাথে অনেকগুলো জটিল ফাইল বা প্রজেক্ট সামলাতে গিয়ে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টিটাস্কিং মানুষের ফোকাস করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
  • অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ ও অস্পষ্টতা: ডেস্কে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব বা আশেপাশের অতিরিক্ত শব্দ বিরক্তির প্রধান কারণ হতে পারে। এছাড়াও সহকর্মীদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে কাজের স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়া বিভ্রান্তি ও বিরক্তির উদ্রেক করে।

Work Inner 1

প্রতিকারের কিছু কার্যকরী কৌশল

কর্পোরেট জীবনে নিজেকে চনমনে রাখতে এবং পরিস্থিতি যেমনই হোক, নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ও ক্যারিয়ারের ভারসাম্য রক্ষায় নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

১. কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করা: দিনের শুরুতেই একটি ‘টু-ডু লিস্ট’ তৈরি করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আগে করুন। অনেক কাজ একসাথে না ধরে একটি শেষ করে অন্যটি শুরু করুন। 

২. পমোডোরো টেকনিক ব্যবহার: একটানা কাজ না করে প্রতি ২৫ মিনিট পর ৫ মিনিটের ছোট বিরতি নিন। এই সময়টুকু ডেস্ক থেকে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করুন বা চোখকে বিশ্রাম দিন। 

৩. ম্যানেজমেন্টের সাথে কথা বলা: যদি কাজের চাপ আপনার সক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তবে উপযুক্ত তথ্যসহ আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন। লোকবল সংকটের বিষয়টি বিনয়ের সাথে বুঝিয়ে বললে অনেক সময় বিকল্প সমাধান বেরিয়ে আসে। 

Work Inner 2

৪. ডিজিটাল ডিটক্স ও ব্যক্তিগত সময়: কাজের ফাঁকে বা ছুটির দিনে অফিসের গ্রুপ চ্যাট বা মেইল থেকে দূরে থাকুন। নিজের শখের কাজ বা প্রিয়জনের সাথে সময় কাটান, যা আপনাকে নতুন উদ্যমে কাজে ফেরার শক্তি দেবে। 

৫. কাজের জায়গার পরিবর্তন: সম্ভব হলে ডেস্কের সাজসজ্জা একটু পরিবর্তন করুন। ডেস্কে একটি ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট বা প্রিয়জনের ছবি রাখতে পারেন যা আপনার মনকে শান্ত রাখবে। 

৬. পর্যাপ্ত ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস: মনোযোগ ঠিক রাখতে দৈনিক অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। পাশাপাশি প্রচুর পানি পান এবং ক্যাফেইন বা অতিরিক্ত শর্করার ওপর নির্ভরতা কমান। 

 ৭. প্রয়োজনে ‘না’ বলা শিখুন: নিজের ক্ষমতার বাইরে বাড়তি কাজের চাপ নেবেন না। অতিরিক্ত চাপ মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে কাজের মান কমিয়ে দেয়। 

কর্মক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা আপনার সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর সেই দক্ষতা বজায় রাখতে হলে নিজের শরীর ও মনের সুস্থতা সবার আগে প্রয়োজন। কাজের পাহাড় যেন আপনার সৃজনশীলতাকে পিষ্ট করতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প