
পৃথিবী সূর্য থেকে কতটুকু শক্তি গ্রহণ করে এবং মহাকাশে কতটুকু প্রতিফলিত করে—চাঁদ থেকে কোনোভাবে পৃথিবীতে চোখ রাখতে পারলেই নিখুঁতভাবে জানা সম্ভব হবে সেই হিসাব। ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: অ্যাটমোস্ফিয়ার্স’-এ প্রকাশিত চীনা গবেষকের নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদ থেকেই পৃথিবীর সামগ্রিক ‘রেডিয়েশন সিগনেচার’ বা বিকিরণের পূর্ণ চিত্র দেখা সম্ভব।
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসা এই ‘রেডিয়েশন বাজেট’ নির্ভুলভাবে পরিমাপ করাটা এখনও বিজ্ঞানীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ কাজে নানা ধরনের স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হলেও এসবের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্যাটেলাইটগুলো একেক সময় পৃথিবীর একেক অংশ দেখে। পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থির থাকে এগুলো।
সাম্প্রতিক গবেষণা-প্রবন্ধের প্রধান লেখক ও চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষক ইয়ে হানলিন বলেন, ‘চাঁদ থেকে পৃথিবীকে একটি পূর্ণ থালার মতো দেখায়। এতে পৃথিবীর প্রধান বিকিরণ সংকেতগুলো সংগ্রহ করতে পারি এবং ছোটখাটো আবহাওয়ার বিচ্যুতিগুলো এড়িয়ে যেতে পারি।’
গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন, চাঁদ থেকে দেখা পৃথিবীর নির্গত বিকিরণের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবর্তনকে ‘স্ফেরিক্যাল হারমনিকস’ নামের একটি গাণিতিক নকশা দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এটি অনেকটা পৃথিবীর ‘রেডিয়েশন ফিঙ্গারপ্রিন্ট’-এর মতোই কাজ করে, যা জলবায়ু গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ বড় বৈশিষ্ট্যগুলোকেও স্পষ্ট করে তোলে।
সূত্র: সিএমজি











































