শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক বিনোদন ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ন
শেয়ার

মাইক্রোফোন ছেড়ে কেন শান্তিনিকেতনে অরিজিৎ সিং?


Arijit

২০২৬ সালের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অরিজিৎ সিংয়ের একটি আচমকা পোস্ট স্তব্ধ করে দিয়েছে বলিউড ও টলিউডের সংগীত দুনিয়াকে। বছরের শুরুতেই ভক্তদের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে তিনি আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করবেন না। 

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই বাংলার রোমান্টিক গানের প্রাণভ্রমরা অরিজিৎ হয়ে ওঠা এই শিল্পীর এমন সিদ্ধান্ত মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। জিয়াগঞ্জের সেই সাদামাটা ছেলেটি, যিনি তার দরাজ কণ্ঠে কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন, তার এই প্রস্থানে স্বভাবতই ভেঙে পড়েছেন অগণিত অনুরাগী। 

তবে ভক্তদের মনে জমা হওয়া বিদায়ের মেঘ অরিজিৎ নিজেই পরিষ্কার করেছেন কিছুক্ষণ পর। তিনি জানিয়েছেন, সংগীত থেকে তিনি পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না বরং একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে এবং নতুন কিছু শিখতেই এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৬ সালে তাঁর বেশ কিছু আগে থেকে চুক্তিবদ্ধ গান মুক্তি পাবে, যা শ্রোতাদের জন্য হবে এক বিশেষ পাওয়া।

অরিজিতের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বলিউডের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দলাদলি নিয়ে নানা জল্পনা চললেও, তিনি বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন। মুম্বাইয়ের চাকচিক্যময় জীবনের বদলে এখনো তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন জিয়াগঞ্জের অলিগলিতে স্কুটি চালিয়ে ঘুরে বেড়াতে। 

রিয়ালিটি শো থেকে বাদ পড়ার পর দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে ‘ফির মহব্বত’ এবং পরবর্তীতে ‘তুম হি হো’ গানের মাধ্যমে তিনি যে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন, তা আজ ইতিহাসের অংশ। দুইবার জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই শিল্পী শুধু হিন্দি বা বাংলা নয়, তামিল, তেলেগুসহ বহু ভাষায় সাত শতাধিক গান উপহার দিয়েছেন। 

তাঁর এই প্রস্থানকে সাহসীর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন কুমার শানুর মতো কিংবদন্তিরা। আবার শ্রেয়া ঘোষালের মতো সহকর্মীরা তাঁর নতুন অধ্যায় দেখার অপেক্ষায় মুখিয়ে আছেন। প্লেব্যাক ছাড়লেও অরিজিতের সংগীতযাত্রা কিন্তু থামছে না বরং ডালপালা মেলছে নতুন দিকে। ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, গানের পাশাপাশি অরিজিৎ এখন চলচ্চিত্র নির্মাণে গভীরভাবে মন দিতে চান। 

সত্যজিৎ রায়ের দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ইতিমধ্যে নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকীকে নিয়ে নিজের প্রথম হিন্দি ছবির কাজ শুরু করেছেন শান্তিনিকেতনে, যার চিত্রনাট্য লিখছেন তাঁর স্ত্রী কোয়েল সিংয়ের সাথে যৌথভাবে। চেনা গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এক অন্য অরিজিতকে দেখার এই যাত্রা যেমন কষ্টের, তেমনি তা নতুন সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে তাঁর সফর হয়তো এখানেই থামছে কিন্তু সুরের জাদুকর হিসেবে তাঁর নতুন রূপ দেখার জন্য এখন উন্মুখ পুরো বিশ্ব।

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প