
ছবি: সংগৃহীত
ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ডের নাম সবসময়ই শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়। যদিও দেশটির জাতীয় খেলা রাগবি, তবুও ক্রিকেটে যুগে যুগে অসংখ্য তারকা খেলোয়াড় উপহার দিয়েছে কিউইরা। স্যার রিচার্ড হ্যাডলি, মার্টিন ক্রো, স্টিফেন ফ্লেমিং থেকে শুরু করে হাল আমলের রস টেলর ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো কিংবদন্তিরা ব্ল্যাক ক্যাপসদের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন।
তবে এত সাফল্যের পরও একটি বড় আক্ষেপ তাদের তাড়া করে বেড়ায়—নিউজিল্যান্ডের ট্রফি কেবিনেটে এখনো কোনো সীমিত ওভারের (ওডিআই বা টি-টোয়েন্টি) বিশ্বকাপ শিরোপা নেই।
সেই আক্ষেপ ঘোচানোর আরেকটি সুযোগ এসেছে এবার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বাধীন নিউজিল্যান্ড। তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত, যারা ইতোমধ্যে এই ফরম্যাটে দুইবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছে।
তৃতীয় শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই আজ ঘরের মাঠে নামছে স্বাগতিকরা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে এই মেগা ফাইনাল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম শিরোপা এসেছিল ২০০৭ সালে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালে তারা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে। বর্তমান আসরেও তারা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। তার ওপর ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা তো রয়েছেই—চেনা কন্ডিশন, পরিচিত উইকেট এবং গ্যালারিভর্তি নীল সমুদ্রের গর্জন।
তবে এই সুবিধার পাশাপাশি প্রত্যাশার পাহাড়সম চাপও রয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দলের ওপর। প্রায় ১৫০ কোটি মানুষের স্বপ্ন নিয়ে আজ মাঠে নামবে টিম ইন্ডিয়া।
অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড এর আগে একবারই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল—২০২১ সালে। সেবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল কিউইদের। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ট্রফি নিয়ে ঘরে ফিরতে মরিয়া তারা। তবে তাদের সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ—ভারত দল, আহমেদাবাদের কন্ডিশন এবং গ্যালারির প্রচণ্ড চাপ।
পরিসংখ্যান বলছে, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি নিউজিল্যান্ড। এটি কিউই শিবিরের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।
ভারতের শক্তির বড় জায়গা সাঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিং। সেমিফাইনালে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই দলকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। বোলিংয়ে জাসপ্রিত বুমরাহ বরাবরের মতোই দলের প্রধান অস্ত্র। যদিও পরিসংখ্যানে কিউইদের বিপক্ষে বুমরাহ কিছুটা ম্লান—টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪ ম্যাচে তিনি শিকার করেছেন ১৬টি উইকেট।
এছাড়া ওপেনার অভিষেক শর্মা ও স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর সাম্প্রতিক অফ-ফর্ম কিছুটা ভাবাচ্ছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে।
নিউজিল্যান্ড শিবিরে স্বস্তির নাম ওপেনার টিম সাইফার্ট, যিনি আসরে ইতোমধ্যে তিনটি ফিফটি করেছেন। সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি করা ফিন অ্যালেন ও ছন্দে থাকা গ্লেন ফিলিপস আজ ভারতের জন্য বড় হুমকি হতে পারেন। কিউই বোলাররাও টুর্নামেন্ট জুড়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে নিজেদের সামর্থ্য জানান দিয়েছেন।
মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে কিউইরা ভারতের চেয়ে এগিয়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি টিম ইন্ডিয়া; দুই দলের তিনটি লড়াইয়ের তিনটিতেই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। এছাড়া আইসিসি ইভেন্টের ফাইনালেও ভারতের বিপক্ষে কিউইদের রেকর্ড বেশ উজ্জ্বল—২০০০ সালের নকআউট ট্রফি এবং ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল তারা।
সব মিলিয়ে আজ লড়াই হবে সমানে সমান। একদিকে পরিসংখ্যান ও চাপের মুখে নিউজিল্যান্ডের লড়াই, অন্যদিকে ঘরের মাঠে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশন। শেষ পর্যন্ত কি আহমেদাবাদে কিউইদের প্রথম শিরোপার সূর্য উঠবে, নাকি ভারত জিতবে তাদের তৃতীয় ট্রফি? উত্তর মিলবে আজ রাতের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে।







































