
বৈভব সূর্যবংশী
ভারতীয় ক্রিকেটে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত নামটি হলো বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে এই বিহারের তরুণ ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের সব হিসাব-নিকাশ একেবারে পাল্টে দিয়েছেন। যেখানে অভিজ্ঞ তারকারা প্রাণপণ লড়াই করে রান তুলতে হয়, সেখানে সূর্যবংশী ছক্কা মারছেন যেন একদম সহজ ছেলেখেলা।
টি-টোয়েন্টিতে ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনি হয়ে উঠেছেন টিনএজারদের ছক্কার রাজা। মাত্র ২৬ ইনিংসে তিনি তুলে নিয়েছেন ১০৫৮ রান, যার মধ্যে অবিশ্বাস্য ৫৬৪ রান এসেছে শুধু ছক্কা থেকে।
টিনএজার হিসেবে ৯৪টি ছক্কা মেরে তিনি ভেঙে দিয়েছেন আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজের ৯০ ছক্কার রেকর্ড। ভারতীয়দের মধ্যে আগের রেকর্ড ছিল ঈশান কিষানের, যিনি ৫২ ইনিংসে মেরেছিলেন ৫৩টি ছক্কা। সূর্যবংশী সেই রেকর্ডকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছেন।


টিনএজার হিসেবে ৯৪টি ছক্কা মেরে ভেঙে দিয়েছেন আফগানিস্তানের রহমানউল্লাহ গুরবাজের ৯০ ছক্কার রেকর্ড
২০২৫ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে আইপিএলে অভিষেক করেই তিনি সাড়া ফেলে দেন। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে গড়েন ভারতীয়দের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ড এবং আইপিএলের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির কীর্তি।
এরপর রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে গিয়ে মাত্র ২২৭ বলে ৫০০ রান পূর্ণ করেন, যা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ২৬০ বলের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৩৬ বলে দ্বিতীয় আইপিএল সেঞ্চুরি করার পথে আরও এক অসাধারণ বিশ্বরেকর্ড গড়েন সূর্যবংশী। মাত্র ৪৭৩ বলে টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রান পূর্ণ করেন তিনি। এটি শুধু দ্রুততমই নয়, একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০০০ রানের মাইলফলকে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২০০-এরও বেশি।
ছক্কা, সেঞ্চুরি, দ্রুততম রান—প্রতিটি ইনিংসেই তিনি নতুন নতুন কীর্তি গড়ে চলেছেন। তার ব্যাটে রয়েছে বিস্ফোরক শক্তি, নিখুঁত টাইমিং এবং অটুট আত্মবিশ্বাস। মাঠে নামার পর থেকেই তিনি বলকে যেন শাসন করে চলেন।

একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০০০ রানের মাইলফলকে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২০০-এরও বেশি
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বৈভব সূর্যবংশী প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, টি-টোয়েন্টিতে ছক্কা মারা সবার জন্য সহজ নয় কিন্তু তার কাছে এটা সত্যিই ছেলেখেলা!
পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এখন অপেক্ষায় রয়েছে—এই অসাধারণ তরুণ ভবিষ্যতে আরও কত বড় কীর্তি গড়বেন। রাজস্থান রয়্যালসের এই ‘সুপার কিড’ ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হয়ে উঠেছেন।











































