
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত এক মাসে এই রুটের ৭৯৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আজকে আরও ২২টি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এসব দেশে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪৬টি করে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে গত ২ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৬টি এবং ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল হয়। আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে গত এক মাসে ফ্লাইটের এই ধারাবাহিক বিপর্যয় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরণের স্থবিরতা তৈরি করেছে।
আজ শুক্রবার বাতিল হওয়া ২২টি ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজের চারটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ) ছয়টি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) দুটি, কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের দুটি এবং জাজিরা এয়ারওয়েজের চারটি ফ্লাইট। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, আকাশসীমা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
হঠাৎ ফ্লাইট বাতিলের কারণে শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভিড় ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা দেখা গেছে। অনেক যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখলেও সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতির দিকে তাকিয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা কতদিন স্থায়ী হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলো বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছে এবং সাধারণ যাত্রীদের বিকল্প পথে যাতায়াতের সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে।






































