শনিবার । মার্চ ২৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৭ মার্চ ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহের শপথ গ্রহণ


Balen

ছবি: সংগৃহীত

নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় সূচনা করে দেশটির সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) শীর্ষ নেতা বালেন্দ্র শাহ (বালেন)।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) নেপালের রাষ্ট্রপতি ভবন ‘শীতল নিবাস’-এ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ৩৫ বছর বয়সী এই নেতা কয়েক দশকের মধ্যে হিমালয় কন্যা নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।

পেশায় স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং জনপ্রিয় সাবেক এই র‍্যাপার নেপালের ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। বালেন্দ্র শাহ কেবল বয়সের দিক থেকেই কনিষ্ঠ নন, বরং ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থিত এই দেশটিতে তিনিই প্রথম মধেসি (ভারত সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের সমভূমির অধিবাসী) হিসেবে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতার সিংহাসনে আরোহণ করলেন। তার এই উত্থানকে নেপালের রাজনীতিতে ‘তরুণ প্রজন্মের বিপ্লব’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

গত ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহ এক অভাবনীয় চমক দেখান। ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সিপিএন-ইউএমএল-এর শক্তিশালী চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। উল্লেখ্য যে, এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ওলির একচেটিয়া দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে বালেন শাহের এই বিজয় নেপালের পুরনো রাজনৈতিক মেরুকরণকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী ‘জেন জি’ বিক্ষোভে ৭৬ জন নিহতের ঘটনার পর দেশটিতে ৫ মার্চ প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই উত্তাল পরিস্থিতির পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) অভাবনীয় সাফল্য পায়। ২৭৫ সদস্যের সংসদে এককভাবে ১৮২টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দলটি, যার ফলে বালেন্দ্র শাহের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ একদম পরিষ্কার হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে বালেন্দ্র শাহ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তার জনকল্যাণমুখী কাজ ও প্রশাসনিক দক্ষতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান এবং কাঠমান্ডুর কাঠামোগত উন্নয়নে প্রকৌশলী হিসেবে তার দৃষ্টিভঙ্গি তরুণ ভোটারদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছিল।

রয়টার্সের সূত্রমতে, বালেন্দ্র শাহের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নেপালের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিদেশী কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও চীনের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই এখন তার সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে নেপালের সাধারণ মানুষ তার হাত ধরে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ নেপাল বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন।