
এসব ছবির মধ্যে রয়েছে চাঁদের পেছন থেকে পৃথিবীর উদয় বা ‘আর্থরাইজ’
নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের নভোচারীরা চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাকে অনন্য বলে বর্ণনা করেছেন। চাঁদের পৃষ্ঠের গর্ত, ফাটল ও পাহাড়ি রেখা পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি তারা তুলেছেন বহু প্রতীক্ষিত কিছু ছবি। বর্তমানে চার নভোচারী পৃথিবীতে ফেরার পথে রয়েছেন।
ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালায় দাঁড়িয়ে জোড়ায় জোড়ায় কাজ করে তারা বিভিন্ন ছবি ধারণ করেন। এসব ছবির মধ্যে রয়েছে চাঁদের পেছন থেকে পৃথিবীর উদয় বা ‘আর্থরাইজ’, একটি সৌরগ্রহণ এবং প্রায় ৫৯০ মাইল (৯৫০ কিলোমিটার) প্রশস্ত ওরিয়েন্টালে ইমপ্যাক্ট বেসিনের অংশ—যা আগে কখনও খালি চোখে দেখা যায়নি।
নভোচারীরা জানিয়েছেন, চাঁদের ধূসর পৃষ্ঠে বাদামি, সবুজ ও কমলা রঙের আভা লক্ষ্য করেছেন তারা। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, পরবর্তী ছবিগুলো এই রঙের উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য দিতে পারে। আর্থরাইজের সময় চাঁদের ধুলোর ক্ষীণ স্তরও দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার চাঁদের দূরবর্তী অংশ ঘুরে আসার সময় নভোচারীরা প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য মিশন কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে চার নভোচারী পৃথিবীর দিকে দ্রুতগতিতে ফিরছেন। প্রায় আড়াই লাখ মাইল দীর্ঘ এই ফেরার যাত্রা শেষ হওয়ার কথা শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে।
নাসার নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ, যিনি প্রথম নারী হিসেবে চাঁদের চারপাশে উড়েছেন, তিনি জানিয়েছেন, চাঁদের এত কাছ থেকে পৃষ্ঠ দেখার অভিজ্ঞতা ছিল গভীর আবেগঘন।
‘চাঁদের দিকে তাকিয়ে আমি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছিলাম। মুহূর্তটা খুব অল্প সময়ের ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই মনে হয়েছিল আমি যেন সেই চাঁদের ভূদৃশ্যের ভেতরে চলে গেছি।’
আরেক নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার, যিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী, বলেন জানালা দিয়ে সেই দৃশ্য দেখা ছিল অত্যন্ত আবেগঘন অভিজ্ঞতা।
তিনি বলেন, ‘আমি যেন কল্পনায় চাঁদের পৃষ্ঠে হাঁটছিলাম—সেই অসাধারণ ভূখণ্ডে ওঠানামা করছিলাম।’
আর্টেমিস–২ মিশনটি শুরু হয় ১ এপ্রিল। মিশনে রয়েছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
মিশনের সময় তারা পৃথিবী থেকে মানুষের সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন—২,৫২,৭৫৬ মাইল, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩ মিশনের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে তারা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,০৭০ মাইল দূরে ছিলেন।
পৃথিবীতে ফেরার পথে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ হবে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ, যখন ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় ২০ হাজার মাইলের বেশি গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং তাপমাত্রা ১,৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে। বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করার পর ক্যাপসুলটি প্যারাশুট খুলে ধীরে নেমে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।










































