sentbe-top

‘অভিবাসীরাই কোরিয়ার ভবিষ্যৎ’

দ. কোরিয়ায় জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ার দরুন সম্ভাব্য জনসংখ্যা সংকট এড়াতে অভিবাসনকেই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা। একই কারণে দেশটির কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতে আশু ধ্বস ঠেকাতেও বিদেশীদের কোরিয়ার প্রতি আকৃষ্ট করতে সচেষ্ট হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

কোরিয়া সরকারের ভাষ্যমতে, দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা ৫ কোটি ১০ লক্ষ যা আগামী ২০৩০ সাল থেকে কমতে শুরু করবে। আর দেশটির ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর পরিমাণ আগামী দুয়েক বছরের মধ্যেই হ্রাস পাওয়া শুরু হবে। ২০৬০ সাল নাগাদ কোরিয়ার জনসংখ্যা ৪ কোটি ৪০ লাখে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সংকট প্রশমনে তাই অভিবাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার চিন্তা করছে সরকার।

 

21221618

 

নিম্ন জন্মহার ও জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান বয়স মোকাবেলায় কোরিয়া সরকার ইতোমধ্যেই পাঁচ বছর মেয়াদী একটি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিবাসন নীতিমালার জন্য একটি ‘কন্ট্রোল টাওয়ার’ স্থাপনের কথা বলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিবাসন সম্পর্কে জনমত সংগ্রহ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

জনসংখ্যায় ধ্বস প্রতিরোধে ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়াতে দেশে অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি করার এই সরকারি উদ্যোগের সাথে একমত পোষণ করছেন বিশেষজ্ঞরাও। কোরিয়ার বিদেশী কর্মীদের কাজ করে এমন একটি সিউলভিত্তিক এনজিও গ্লোবাল সারাংয়ের প্রধান কিম হে সুং যেমন বলছেন অভিবাসন নীতিমালা নিয়ে এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু না থাকলেও সমস্যা প্রকট হয়ে গেলে এটাই হবে অন্যতম সমাধান, “জনসংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে যেসব সমস্যা দেখা দেবে অভিবাসন দিয়ে সেসবের সমাধান সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে আলোচনা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা উচিৎ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আমরা পছন্দ করি আর না করি এটাই হবে কোরিয়ার ভবিষ্যৎ। কি পরিমাণ লোক কোরিয়ায় কাজ করতে আসছে দেখুন, কত কত বিদেশী এখানে এসে স্থানীয়দের বিয়ে করছেন দেখুন।”

 

BN-BK445_skbrid_G_20140207033613
বিদেশীদের সাথে কোরিয়ান নাগরিকদের বিবাহের পরিমাণ বাড়ছে

 

ইন্টারন্যাশনাল অরগ্যানাইজেশন ফর মাইগ্রেশান (আইওএম)-এর কোরিয়া শাখার একজন প্রতিনিধি পার্ক মি হাং-ও একমত মি. কিমের সাথে, “কোরিয়া একদিন অভিবাসীদের দেশেই পরিণত হবে। এ ব্যাপারে কোরিয়ার নীতিমালা থাকুক বা না থাকুক, এই দেশে বিদেশীদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।”

কোরিয়ার আইন মন্ত্রনালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, ৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে দ. কোরিয়ার ২০১৮ সালে ১২ লক্ষ ৭০ হাজার, ২০২০ সালে ১৩ লক্ষ ৪০ হাজার ও ২০৩০ সালে ১৮ লক্ষ ২০ হাজার বিদেশী কর্মী প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ চাহিদা পূরণে দেশটিকে আরও অধিক হারে বিদেশী কর্মী নিয়োগ দিতে হবে।

কিম জানান ২০০০ সালে তিনি যখন প্রথমবারের মত এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) প্রবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তখন সরকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অনেকেই এই বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু ব্যবস্থাটি প্রবর্তনের  দশ বছরে দাঁড়িয়ে এদেরই অনেকে বলতে শুরু করেছেন যে ব্যবস্থাটি তাঁদের উপকারে এসেছে।

তবে অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার বিপক্ষেও মত দিচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক। এ ব্যাপারে প্রথমে একটি সামাজিক ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা করা জরুরী বলে মনে করছেন তাঁরা। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে কোরিয়ান সমাজ দীর্ঘদিন ধরে ‘সংরক্ষিত’ থাকায় দেশটির নাগরিকদের একটি বড় অংশ ভিনদেশী সংস্কৃতির অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে আগ্রহী নন। এর উপর প্যারিসে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর অভিবাসীদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা আরও জোরদার হয়েছে। আর এসব কারণে অভিবাসন আইন বদলালেই যে কোরিয়ানরা বিদেশীদের জন্য দেশের দুয়ার খুলে দেবে এমনটা ভাবার কোন সুযোগ নেই বলে মনে করছেন গবেষক লি সাম সিক।

প্রসঙ্গত, কোরিয়ায় বর্তমানে ১২ লক্ষ বিদেশী বংশোদ্ভূত নাগরিক রয়েছেন যার মধ্যে ৯ লাখ ৪০ হাজার বিদেশী কর্মী।

sentbe-top