cosmetics-ad

সুচির গরু মেরে জুতা দান!

rakhine-suchi

মিয়ানমারের রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশত্যাগ ও সেখানে মানবিক সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করছে। দেশটির সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী রক্তাক্ত অভিযানে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে সঙ্কট মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের লাগাম টানতে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি।

বরং রাখাইনের রোহিঙ্গা বিতাড়নের পর সেখানে বিশাল উন্নয়নযজ্ঞের উদ্বোধন করা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে বলছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলেও সেখানে ফেলে আসা জমি ও আবাদি ফসলের মালিকানা ফেরত পাবেন না। তারা ফিরে গিয়ে দেখতে পাবেন; তাদের জমি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে অথবা সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। রাখাইনের উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ছয় কর্মকর্তার সঙ্গে রয়টার্সের প্রতিনিধি আলাপের পর এই তথ্য পেয়েছেন।

রাখাইনে মানবিক সঙ্কট ও রোহিঙ্গা মুসলিমদের পলায়ন অব্যাহত থাকলেও মিয়ানমার সরকার রাখাইনের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে কয়েক বিলিয়ন কিয়াট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দেশটির নেত্রী ও রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচি শুক্রবার রাখাইনের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪ হাজার মার্কিন ডলার দান করেছেন। তার এই উদ্যোগে দেশটির দুই ডজনেরও বেশি শীর্ষ ব্যবসায়ী ও নেতা যোগ দিয়েছেন। রোহিঙ্গা হটিয়ে রাখাইনের উন্নয়নযজ্ঞে সুচির এই অর্থদানকে গরু মেরে জুতা দান হিসাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার দেশটির রাজধানী নেইপিদোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ওই অর্থদানের ঘোষণা দেন। রাখাইনের উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনে দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির নেত্রী অং সান সুচি জনগণের সহায়তা চেয়ে আবারো জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন।

সুচি বলেন, প্রধান শক্তি হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতা। আমরা যখন পরিকল্পনা গ্রহণ করি; তখন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খোলামেলা মন্তব্য চাই।’

দেশটির অন্তত ২৫ ব্যবসায়ী রাখাইনের উন্নয়ন প্রকল্পে এক কোটি ৩২ লাখ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। কানবাজওয়া গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান ইউ অং কো উইন একাই সবচেয়ে বেশি অর্থ (১৩ বিলিয়ন কিয়াট) দিয়েছেন।

রাখাইনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নীতিতে সমর্থন জানিয়ে রোববার দেশটির রাজধানীতে কয়েক হাজার মানুষ সমাবেশ করেছেন। এসময় তারা রাখাইনের বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তার আহ্বান জানান। একইদিনে রাখাইনের রাজধানী সিত্তেতে কট্টরপন্থী কয়েকশ বৌদ্ধ বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভে তারা রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরাতে মিয়ানমার সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী কঠোর অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, রাখাইনে সেনাবাহিনী এবং উগ্র রাখাইন বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের হত্যা, বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ, নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের মতো অপরাধ করছে। তাদের জাতিগত নিধনের চেষ্টা চলছে।

সূত্র: রয়টার্স, ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার, ইরাবতি।