
হলিউডের রুপালি পর্দায় জো সালদানা এখন এক অপ্রতিরোধ্য নাম। বক্স অফিস আয়ের সব রেকর্ড চুরমার করে দিয়ে তিনি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা অভিনেত্রী। সম্প্রতি তার অভিনীত ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
ছবিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ১.২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করে জো সালদানাকে এক অজেয় উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বক্স অফিস তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা ‘দ্য নাম্বার্স’ এর হিসেব অনুযায়ী, সালদানা অভিনীত ছবিগুলোর মোট আয় এখন দাঁড়িয়েছে ১৫.৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে স্কারলেট জোহানসন ও স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনের মতো মহাতারকাদের পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে বসিয়েছে।
জো সালদানার এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অসাধারণ দূরদৃষ্টি ও বিশ্বসেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনে মুন্সিয়ানা। তিনি বিশ্বের একমাত্র অভিনেত্রী, যার ঝুলিতে রয়েছে ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরোনো চারটি ব্লকবাস্টার ছবি। এর মধ্যে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ ও ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’ যেমন আছে, তেমনি মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ড গেম’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ তাকে এনে দিয়েছে বৈশ্বিক পরিচিতি।
মার্ভেলের গামোরা চরিত্র কিংবা ‘স্টার ট্রেক’ ট্রিলজির নয়োটা উহুরা – প্রতিটি অবতারেই তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। তার অভিনীত প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিই বিলিয়ন ডলারের ঘর স্পর্শ করেছে, যা হলিউডের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর আবেগঘন এক ভিডিও বার্তায় জো সালদানা তার এই সাফল্যের কৃতিত্ব ভাগ করে নিয়েছেন সহকর্মী, পরিচালক ও ভক্তদের সঙ্গে। তিনি মনে করেন, এই সাফল্য শুধু তার একার নয়; বরং গুণী পরিচালকদের বিশ্বাস এবং দর্শকদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিফলন।
বিশেষ করে পরিচালক জেমস ক্যামেরন, জেজে আব্রামস, রুশো ব্রাদার্স এবং জেমস গানের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সালদানা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জেমস ক্যামেরন তার ভেতর এমন এক সম্ভাবনা দেখেছিলেন যা তিনি নিজেও কখনও কল্পনা করতে পারেননি। ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সমর্থন ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না।
২০২৫ সালটি সালদানার ক্যারিয়ারে এক স্বর্ণালী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই বছরের মার্চ মাসে ‘এমিলিয়া পেরেজ’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা সহ-অভিনেত্রীর অস্কার জয় করেন। এর মাধ্যমে প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমি পুরস্কার জেতার ইতিহাস গড়েন তিনি।
অস্কারের পাশাপাশি একই ছবির জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসব, গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা এবং ক্রিটিকস চয়েস পুরস্কারও নিজের করে নিয়েছেন এই তারকা। বর্তমানে ‘অ্যাভাটার’ সিরিজের ‘নেইতিরি’ চরিত্রে তার রাজত্ব চলছে।
জো সালদানার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল ৫টি সিনেমা এবং বক্স অফিসে সেগুলোর অবিশ্বাস্য আয়ের রেকর্ড রয়েছে;
১. অ্যাভাটার (২০০৯): চলচ্চিত্র ইতিহাসের পাতায় জো সালদানার নাম চিরস্থায়ী করে দেয় জেমস ক্যামেরনের এই সায়েন্স ফিকশন মাস্টারপিস। এতে তিনি ‘নেইতিরি’ চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৯২ বিলিয়ন ডলার আয় করে এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার সিংহাসন দখল করে আছে। এই ছবির মাধ্যমেই সালদানা বিশ্বজুড়ে সুপারস্টার হিসেবে আবির্ভূত হন।
২. অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (২০১৯): মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের এই মহাকাব্যিক সমাপ্তিতে জো সালদানা অভিনয় করেন ‘গামোরা’ চরিত্রে। থানোসের কন্যা হিসেবে তার আবেগঘন অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে নেয়। ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ২.৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে ইতিহাস গড়েছিল। এটি সালদানার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ছবি যা ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।
৩. অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার (২০২২): প্রথম কিস্তির দীর্ঘ ১৩ বছর পর মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার’-এর এই সিক্যুয়েলটি আবারও জো সালদানার বক্স অফিস জাদু প্রমাণ করে। প্যান্ডোরার সমুদ্রে নেইতিরি ও জ্যাক স্যালির নতুন সংগ্রামের গল্পটি দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণ করেন। ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.৩২ বিলিয়ন ডলার আয় করে এবং সালদানাকে প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে তিনটি ২ বিলিয়ন ডলারি ছবির মালিক হওয়ার গৌরব এনে দেয়।
৪. অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার (২০১৮): মার্ভেলের এই কিস্তিতে গামোরা চরিত্রের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। নিজের বাবার বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়ানো গামোরার বীরত্ব এই ছবির মূল আকর্ষণ ছিল। সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ২.০৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে। এর মাধ্যমে জো সালদানা চতুর্থবারের মতো ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের ক্লাবে প্রবেশ করেন, যা হলিউডের আর কোনো অভিনেত্রীর পক্ষে এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।
৫. অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ (২০২৫): জো সালদানার সাম্প্রতিকতম এই ব্লকবাস্টারটি মুক্তির পরপরই বক্স অফিসে ঝড় তোলে। জেমস ক্যামেরনের অ্যাভাটার সিরিজের এই তৃতীয় কিস্তিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ১.২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করেছে এবং এর আয়ের গ্রাফ এখনও ঊর্ধ্বমুখী। এই ছবিটিই মূলত তাকে স্কারলেট জোহানসনকে টপকে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা অভিনেত্রীর মুকুট পরিয়ে দিয়েছে।
এছাড়াও তার অভিনীত ‘গার্ডিয়ানস অফ দ্য গ্যালাক্সি’ সিরিজের তিনটি ছবি এবং ‘স্টার ট্রেক’ ট্রিলজিও বক্স অফিসে শত কোটি ডলারের ওপর ব্যবসা করেছে, যা তার মোট আয়ের পরিমাণকে ১৫.৪৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অংকে নিয়ে ঠেকিয়েছে।
২০২৯ এবং ২০৩১ সালে মুক্তি পেতে যাওয়া সিরিজের পরবর্তী কিস্তিগুলোতেও তার ফেরার খবর নিশ্চিত হয়েছে। ফলে বক্স অফিসে জো সালদানার এই আধিপত্য আরও বহুকাল বজায় থাকবে বলে সিনেমা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।














































