বৃহস্পতিবার । মার্চ ৫, ২০২৬
সেতু ইসরাত লাইফস্টাইল ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় জীবনযাত্রায় আনুন ৫টি পরিবর্তন


Hormone-Balanceধরুন, কোনো কারণ ছাড়াই আপনার খুব রাগ লাগছে, অথবা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হলো, বিগত তিন দিনে আপনি বোধহয় তিন কেজি ফুলে গেছেন! ভাবছেন হয়তো অফিসের বসের ঝাড়ি বা বাইরের তেল-চর্বিযুক্ত খাবার দায়ী। আসলে পর্দার আড়ালে নাটের গুরু অন্য কেউ। আমাদের শরীরের সব ‘নাট-বল্টু’ আর ‘রিমোট কন্ট্রোল’ যার হাতে, তার নাম হরমোন। এই রাসায়নিক দূতের একটু মেজাজ বিগড়ে গেলেই আপনার জীবন তেজপাতা হয়ে যেতে পারে।

কেন এই হরমোন সাহেবরা মাঝেমধ্যে ধর্মঘট ডাকেন আর কীভাবে তাদের ঠান্ডা রাখা যায় চলুন জেনে নিই; 

হরমোন কেন অবাধ্য হয়? 
আপনার শান্ত শরীরটাকে রণক্ষেত্র বানানোর পেছনে হরমোনের কিছু নিজস্ব ওজুহাত থাকে:

  • ক্রনিক স্ট্রেস বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ: অত্যধিক কাজের চাপ বা মানসিক দুশ্চিন্তা শরীরের ‘অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড’-এর ওপর প্রভাব ফেলে। এতে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা শরীরের স্বাভাবিক হরমোন চক্রকে ব্যাহত করে। 
  • অস্বাস্থ্যকর ডায়েট ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ফলে ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা নষ্ট হয়। এটি স্থুলতা ও হরমোনজনিত নানা সমস্যার মূল উৎস। 
  • সার্কাডিয়ান রিদম বা ঘুমের চক্র ব্যাহত হওয়া: নিয়মিত পর্যাপ্ত না ঘুমালে শরীরের এন্ডোক্রাইন সিস্টেম মেরামত হতে পারে না। বিশেষ করে মেলাটোনিন ও গ্রোথ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। 
  • শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: কায়িক শ্রমের অভাব শরীরের এন্ডোক্রাইন গ্রন্থিগুলোর সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়, ফলে প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণে বিঘ্ন ঘটে।Hormone-Balance

হরমোনের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের ৫টি কার্যকরী পদক্ষেপ
চিকিৎসকদের মতে, ওষুধের চেয়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তন হরমোন নিয়ন্ত্রণে বেশি স্থায়ী ভূমিকা রাখে:

১. উচ্চমানের প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা: পেশি গঠন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ‘পেপটাইড’ ঠিক রাখতে প্রতিবেলা খাবারে উচ্চমানের প্রোটিন (যেমন- মাছ, ডিম বা ডাল) নিশ্চিত করুন। এর পাশাপাশি আঁশযুক্ত খাবার রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে হরমোনের সঠিক প্রবাহ বজায় রাখে।

২. নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম: ব্যায়াম করলে কোষে ইনসুলিন গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ে এবং ‘অ্যাভয়েড স্ট্রেস’ হরমোন বাড়ে। হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম শরীরের কর্টিসল লেভেল কমিয়ে এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে, যা হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।

৩. চিনি ও কৃত্রিম মিষ্টান্ন বর্জন: হরমোনের গোলমাল ঠেকাতে চিনি এবং সোডাযুক্ত পানীয় পুরোপুরি বর্জন করা জরুরি। এটি মেটাবলিজম ঠিক রাখে এবং ফ্যাটি লিভার বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

৪. গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম: হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়াটি মূলত ঘুমের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস করলে এবং অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করলে শরীরের হরমোনাল সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গঠিত হয়।

৫. মানসিক স্থিতিশীলতা ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: শরীরের রাসায়নিক ভারসাম্য রক্ষায় মনের শান্তি অত্যন্ত জরুরি। মেডিটেশন, ইয়োগা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখলে শরীরের সামগ্রিক হরমোনাল স্বাস্থ্য উন্নত হয়।

Hormone-Balanceহরমোনের গোলমাল মানেই কিন্তু দুনিয়া শেষ নয়। তবে যদি দেখেন হঠাৎ খুব চুল পড়ছে, গায়ের চামড়া খসখসে হয়ে যাচ্ছে বা ওজন নিয়ে রোলার-কোস্টার চলছে, তবে ঘরে বসে টোটকা না খুঁজে একবার ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা হরমোনের সমস্যাগুলো প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত না করলে তা থাইরয়েড, ডায়াবেটিস বা বন্ধ্যাত্বের মতো জটিলতায় রূপ নিতে পারে। মনে রাখবেন, শরীরটা আপনার, তাই এর কলকাঠিগুলোকেও আপনারই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে!দেরি না করে একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। 

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প