
কিম জং উন
ইরানে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা করেছে দেশটি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ বুধবার জানায়, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্তকে পিয়ংইয়ং সম্মান করে। তিনি নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে অনুমোদন দেয়।
কেসিএনএ মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়, ‘ইসলামি বিপ্লবের নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সাম্প্রতিক ঘোষণা আমরা লক্ষ্য করেছি। ইরানের জনগণের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের অধিকার ও সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান জানাই।’
একই সঙ্গে মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ সামরিক হামলা’ চালিয়ে তারা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তিকে দুর্বল করছে এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, এসব হামলা একটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত এর তীব্র নিন্দা জানানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ১২ দিন আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কর্মকাণ্ডকে ‘গ্যাংস্টারসুলভ আচরণ’ বলে অভিহিত করে আসছে।
এদিকে কেসিএনএ আরও জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশের সর্বশেষ ও বৃহত্তম নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘চো হিওন’ থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ তদারকি করেছেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং তা সম্প্রসারণ করা দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দায়িত্ব।
চো হিওন যুদ্ধজাহাজ থেকে এটি দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যা কিম জং উনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পিয়ংইয়ং বরাবরই দাবি করে আসছে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে তাদের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র অপরিহার্য।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে কিম জং উনও সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে দুই দেশ ভালভাবেই একসঙ্গে চলতে পারে।








































