
ভারতের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও পদুচেরির নির্বাচনের ফল ৪ মে একযোগে ঘোষণা করা হবে
ভারতের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হচ্ছে। তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও পদুচেরি। এদের মধ্যে পদুচেরিকে পুরোপুরি রাজ্য বলা যাবেনা, ইউনিয়ন টেরিটরি। সবগুলো রাজ্যেই ভোটগ্রহণ শেষ। শুধুমাত্র পশ্চিম বাংলায় ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ হবে। এরপর ৪ মে একযোগে সবগুলো রাজ্যের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
বিধানসভা ভোট হয় এই বিবেচনায় ভারতের রাজ্যসংখ্যা ৩০টি। যদিও এর মাঝে দিল্লি ও পদুচেরি ইউনিয়ন টেরিটরি। তো এই ৩০ রাজ্যের মধ্যে বর্তমানে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এককভাবে ক্ষমতায় আছে মাত্র তিনটি রাজ্যে। তাদের জোট ক্ষমতায় আছে আরও তিন রাজ্যে। অন্যদিকে এককভাবে বিজেপির দখলে আছে ১৩টি রাজ্য। আর জোটবদ্ধভাবে আরও প্রায় ৭টি রাজ্যে ক্ষমতায় তারা।
প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে যে কংগ্রেস পার্টি দেশটিতে প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় ছিল, তার ভবিষ্যত কি? ২০১৪ থেকে গেলো ১২ বছর ধরে ভারতের শাসন ক্ষমতার বাইরে কংগ্রেস। এত লম্বা সময় দলটি কখনো ক্ষমতার বাইরে থাকেনি। ওদিকে একে একে হারিয়েছে অনেক রাজ্য। হারাতে হারাতে হাতে আছে মাত্র তিনটি। এ দফায় যে ৫ রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে তারমধ্যে কোনটিতেই ক্ষমতায় নেই কংগ্রেস। ফলে দলটির সামনে হারানোর কিছু নেই আছে যোগ করার সুবর্ণ সুযোগ। কংগ্রেস কি পারবে?

নির্বাচন হওয়া ৫ রাজ্যের তিনটিতে তারা প্রধান প্রতিদ্বন্দী- আসাম, কেরালা ও পদুচেরি। কেরালা ও আসাম- এই দুই রাজ্যে দশ বছর আগে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা আছে যে রাজ্যে সেটি হচ্ছে কেরালায়। ধারণা করা হচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট তথা ইউডিএফ নির্বাচনে জিততে পারে। ভারতের সবচেয়ে উন্নত ও আধুনিক রাজ্যগুলোর একটি কেরালা বরাবরই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এই রাজ্যে কংগ্রেসের প্রধান প্রতিদ্বন্দী কিন্তু বিজেপি না, বাম ফ্রন্ট। কেরালার রাজনীতিতে একটি বিষয় বহু বছর ধরে প্রচলিত, ৫ বছর পর পর কংগ্রেস এবং বামেদের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল। যদিও ২০২১ এ এসে সেটির ব্যত্যয় ঘটে। পরপর দুবার ক্ষমতায় আসে বাম জোট। ফলে ভোট বিশ্লেষকদের ধরণা, এবার রাজ্যটিতে কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
অন্যদিকে আসামেও ভালো সম্ভাবনা আছে কংগ্রেসের। দশ বছর আগে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর আগে আসামে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তরুণ গগৈ। এবার তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব গগৈয়ের হাত ধরে রাজ্যটিতে আবার ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে দলটি। যদিও কাজটা ততটা সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে না। কাটে কি টক্কর, অর্থাৎ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথা বলছেন বিশ্লেষকরা। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিজেপিও সব ধরণের চেষ্টা চালিয়েছে। নির্বাচনের আগে আগে কংগ্রেস থেকে দলটির শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত দুজন নেতাকে দলে ভিরিয়েছে। যদিও বিজেপির বর্তমান যিনি মুখ্যমন্ত্রী, যার নেতৃত্বে দলটি নির্বাচনে লড়েছে সেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজেও একজন সাবেক কংগ্রেসি। রাজ্যে বিজেপির জয় কিংবা পরাজয় যাই ঘটুক তার পেছনের বড় কারণ হবেন এই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। আর কংগ্রেস জিতলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ব্যক্তিগত নেতিবাচক ইমেজের বাইরে কাজ করতে পারে বিজেপির রাজ্য পরিচালনার ব্যর্থতা, মুসলিম ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভোট এবং কিছুটা হলেও গৌরব গগৈয়ের কারিশমা তথা তার বাবার লিগেসি।
বাকি তিন রাজ্যের মধ্যে তামিলনাড়ুতে বর্তমান ক্ষমতাসীন ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে এই জোটের জুনিয়র পার্টনার কংগ্রেস। যদিও নির্বাচনের পার্টনার হলেও ক্ষমতার পার্টনার হওয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ জিতলে সরকার এককভাবে ডিএমকেই গঠন করবে। অতীতে তাই-ই হয়েছে।
আর পশ্চিমবঙ্গ জয়ের লড়াইয়ে কংগ্রেস নেই। সেখানে ক্ষমতার লড়াই বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে। আর কংগ্রেসরে লড়াই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। গেলো নির্বাচনে একটি আসনেও না জেতা কংগ্রেস রাজ্যটিতে এবার এককভাবে লড়ছে। চাইছে অন্তত কিছু আসনে জিতে রাজ্যে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখতে।
বাকি রইলো পদুচেরি। পদুচেরিতেও কংগ্রেস-ডিএমকে জোটের জয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবেনা। ৩০ আসনের এই রাজ্যে কংগ্রেস ১৬ এবং ডিএমকে ১৪ আসনে লড়ছে। এখানে জিতলে হয়তো কংগ্রেস থেকেই কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
২০২৫ সাল ছিল ইলেক্টোরালি কংগ্রেসের জন্য চরম বিপর্যয়ের বছর। দলটি দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে একটিও আসন জিততে পারেনি। অন্যদিকে বিহারের নির্বাচনে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে কম আসনে জিতেছে।
এবারের এই ৫টি রাজ্যের নির্বাচন তাই কংগ্রেসের অস্তিত্ব এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস যদি ভালো করতে পারে তাহলে তার প্রভাব সামনের নির্বাচনগুলোতে পরবে। এমনকি সেটা বজায় থাকবে ২০২৯-এর জাতীয় নির্বাচনে তার পর্যন্ত। পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্র দলগুলোর কাছেও একটি শক্ত বার্তা দিতে পারবে তারা। যাদের কাছে কংগ্রেস ইতিমধ্যেই অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। আর কংগ্রেস যদি ভালো করতে ব্যর্থ হয় তাহলে তা শুধু কংগ্রেসের জন্যই না, ভারতের রাজনীতির জন্যও তা হবে বড় চিন্তার কারণ।











































