
মোটোজিপিতে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন প্রথম তুর্কি রাইডার হিসেবে, যা দুই চাকার মোটরস্পোর্টের সর্বোচ্চ স্তর
২৯ বছর বয়সে তিনটি বিশ্ব শিরোপা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিলিয়ন অনুসারী—এমন অর্জনের পর অনেক ক্রীড়াবিদই একটু থেমে সাফল্য উপভোগ করতে চাইতেন। কিন্তু তোপরাক রাজগাতলিওলু সেই দলে নন। বরং সাবেক ওয়ার্ল্ড সুপারবাইক চ্যাম্পিয়ন এ বছর নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন—মোটোজিপিতে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন প্রথম তুর্কি রাইডার হিসেবে, যা দুই চাকার মোটরস্পোর্টের সর্বোচ্চ স্তর।
তুরস্কের সমুদ্রতীরবর্তী শহর আলানিয়াতে জন্ম নেওয়া রাজগাতলিওলুর জীবনে মোটরসাইকেল যেন রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। তার বাবা আরিফ রাজগাতলিওলু ছিলেন বিখ্যাত স্টান্ট রাইডার, যিনি ‘ওয়ান হুইল আরিফ’ নামে পরিচিত ছিলেন।
শৈশব থেকেই বাইকের সঙ্গে বেড়ে ওঠা রাজগাতলিওলু খুব অল্প বয়সেই রাইডিং শুরু করেন। তবে বাবার মতো স্টান্ট রাইডিংয়ে দীর্ঘদিন থাকেননি। বরং প্রতিযোগিতামূলক রেসিংয়ের দিকেই ঝুঁকে পড়েন।

তার পরিবার ধনী ছিল না। তবুও বাবার চেষ্টায় তিনি রেস চালিয়ে যেতে পেরেছেন। পরিবারটি ভাড়ায় বাইক দিত, আর সেই বাইকই রাতে রেস ট্র্যাকে নিয়ে গিয়ে ব্যবহার করা হতো—একই বাইক দিনে ভাড়া, রাতে রেসিংয়ের কাজে লাগাতেন তোপরাক।

তোপরাক রাজগাতলিওলু
পরবর্তীতে তিনি রেড বুল কাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান, যদিও শুরুতে তেমন সফল হতে পারেননি। তবে তার স্বাভাবিক দক্ষতা দ্রুত নজর কাড়ে কোচ ও বিশ্লেষকদের।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সফল সময় কাটানোর পর ২০১৮ সালে তিনি সুপার বাইক ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশীপে যোগ দেন। মাত্র চার বছরের মধ্যেই জয় করেন বিশ্ব শিরোপা।
তবে তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তারা বাবা এই সাফল্য দেখে যেতে পারেননি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তার বাবা আরিফ রাজগাতলিওলু এবং তার সঙ্গী। এই ব্যক্তিগত শোকই যেন তার ক্যারিয়ারে গভীর প্রভাব ফেলে।
২০২১ সালে প্রথম বিশ্ব শিরোপা জয়ের পর তিনি বলেন, এই সাফল্য তিনি বাবার জন্য উৎসর্গ করেছেন। তবে তার মতে, মোটোজিপিতে ওঠাই ছিল তার বাবার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
মোটরস্পোর্ট বিশ্লেষকদের মতে, রাজগাতলিওলু ইতোমধ্যেই সুপারবাইক ইতিহাসের অন্যতম সেরা রাইডারদের একজন। অনেকেই তার পারফরম্যান্সের তুলনা করছেন মার্ক মারক্যুইজ, পেকো বাগনাইয়া এবং জর্জ মর্টিনের মতো তারকাদের সঙ্গে।











































