
ছবি: বাংলা টেলিগ্রাফ
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে বড় ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। ইরানের সাথে সম্পর্কিত বা অন্য কোনো কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো যেন চীনা কোনো প্রতিষ্ঠান মেনে না চলে বা অগ্রাহ্য করে এমনটিই নির্দেশ দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
চীনের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। তাই এসব নিষেধাজ্ঞা “স্বীকৃতি, বাস্তবায়ন বা অনুসরণ করা হবে না” বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বেইজিং।
খবর আল-জাজিরা
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ অভিযোগ করে, চীনের কিছু রিফাইনারি ইরান থেকে তেল কিনছে। এর ফলে ওই কোম্পানিগুলোকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয় এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসা করলে অন্য প্রতিষ্ঠানকেও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে চিনের হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান)-কে ইরানের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া সূত্র জানা গেছে, এই আইনি নির্দেশের আওতায় যে পাঁচটি চীনা প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে সুরক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি, শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুকিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল।
এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের কাছ থেকে সরাসরি তেল কেনার অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া একতরফা নিষেধাজ্ঞা গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি এটি চীনের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার অংশ।
প্রসঙ্গত চীন তার মোট তেলের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা বর্তমানে চীন। “টিপট” রিফাইনারিগুলো সস্তা তেল কিনে কাজ চালায়। তবে এসব রিফাইনারি ইতোমধ্যে তেল আমদানি ও বিক্রিতে জটিলতা এবং পণ্যের উৎস গোপন করে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার মতো সমস্যায় পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
বেইজিংয়ের এই আইনি নির্দেশটির মূল উদ্দেশ্য হলো চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে অকার্যকর করে দেওয়া। তবে চীনের পক্ষ থেকে জারি করা এই পাল্টা নির্দেশটি ঠিক কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, তেল বাণিজ্য নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যকার এই আইনি ও অর্থনৈতিক লড়াই বিশ্ববাজারে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।













































