
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শামীম হোসেন (৩২) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সড়ে ৭টার দিকে দাম্মাম শহরের একটি বাসার ছাদে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম হোসেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের খাগুরিয়া গ্রামের আব্দুস ছালামের ছেলে। দুই সন্তানের জনক শামীমের এই আকস্মিক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার শোকার্ত স্বজনরা। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সচ্ছলতা ও জীবিকার তাগিদে ২০২৪ সালে অনেক ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শামীম হোসেন। সেখানে তিনি একটি তেল পাম্পে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে নিজের বাসার ছাদে শুকানো কাপড় আনতে যান শামীম। এ সময় অসাবধানতাবশত ছাদের ওপর থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এলে তিনি তীব্রভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে খবর পেয়ে সৌদি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বর্তমানে তার মরদেহটি সেখানেই রাখা হয়েছে।
শামীমের এমন অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার পুরোপুরি দিশাহারা হয়ে পড়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার মা জরিনা বেগম জানান, ছেলের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা; এখন শুধু চান দ্রুত যেন তার মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
বাবা আব্দুস ছালাম আক্ষেপ করে বলেন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু সব স্বপ্ন এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মোস্তফা জানান, সুখের আশায় অনেক কষ্ট করে পরিবারটি শামীমকে বিদেশে পাঠিয়েছিল। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের চেষ্টা করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
















































