শনিবার । জুন ৬, ২০২৬
বিজনেস ডেস্ক বিজনেস ৬ জুন ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম


Oil

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত আপাতদৃষ্টে সীমিত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শনিবার (০৬ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রধান প্রধান সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম এক ধাক্কায় ২ দশমিক ৬ শতাংশেরও বেশি কমে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৫৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ১ দশমিক ৯৪ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩ দশমিক ০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সীমিত সামরিক বিনিময়কে বৈশ্বিক বাজার তুলনামূলকভাবে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত সংঘাত’ হিসেবে দেখছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের কোনো বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা আপাতত কমে গেছে। এই স্বস্তির কারণেই মূলত তেলের বাজারে এমন দরপতন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে সংঘাত সীমিত থাকলেও সমুদ্রসীমায় মার্কিন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের আওতায় ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি সুপারট্যাংকার ‘এম টি ডাভিনা’ জব্দ করেছে। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশাল জাহাজটি ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজটি মূলত ইরানি তেল পরিবহনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এটিকে জব্দ করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালেও জাহাজটি ইরানি তেল বহনের দায়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পড়েছিল।

চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের কোনো আতঙ্ক তৈরি হয়নি। কারণ গত শুক্রবারের মুখোমুখি অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোনো বড় পরিসরের যুদ্ধে রূপ নেয়নি। ফলে তেল উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক রুটে জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো বিঘ্ন ঘটেনি, যা বিশ্ববাজারকে বড় ধরণের অস্থিরতা থেকে রক্ষা করেছে।

তবে বাজার পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিশ্লেষকরা এখনই পুরোপুরি শঙ্কাযুক্ত হতে পারছেন না। তারা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে এখনো বেশ সংবেদনশীল ও অস্থির করে রেখেছে। যেকোনো মুহূর্তে এই সংঘাত যদি তীব্র আকার ধারণ করে কিংবা রুটে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, তবে তেলের দাম দ্রুত আবারও আকাশচুম্বী হতে পারে।