
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী
ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক অভিযানে নিয়োজিত বিমান ও নৌবাহিনীর আকার কমানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তকে ন্যাটোর প্রতি ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ জুন) ইউরোপীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ন্যাটোর জন্য বরাদ্দ যুদ্ধবিমান ও সামুদ্রিক নজরদারি বিমানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে চায়। পাশাপাশি একটি সাবমেরিন, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ অন্য অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আমেরিকা অঞ্চলে বেশি মনোযোগ দেওয়া।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর জন্য বরাদ্দ এফ-১৬ ও এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা প্রায় ১৫০ থেকে কমিয়ে ১০০ করা হবে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক নজরদারি বিমানের সংখ্যা ২৬ থেকে ১৫-এ নামিয়ে আনা হবে। এছাড়া আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী আটটি বিমান পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউরোপীয় প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত দুটি বোমারু বিমান টাস্কফোর্সের একটি অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম একটি সাবমেরিন ও একটি বিমানবাহী রণতরীও সরিয়ে নেওয়া হবে।
এই সম্ভাব্য কাটছাঁট ন্যাটোর নজরদারি ও দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতিতে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে ন্যাটো।
তবে ন্যাটো কর্মকর্তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ‘একটি মিত্র দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে এই পরিবর্তন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে আরও টেকসই করবে।’
এদিকে ন্যাটোর সর্বাধিনায়ক মার্কিন জেনারেল অ্যালেক্স গ্রিনকেভিচ বলেছেন, জোটকে দ্রুত সংগ্রহ, মোতায়েন ও দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সম্ভব—এমন প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে দূরপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ন্যাটোর সমালোচনা করে আসছেন। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষায় কম বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার মিত্র দেশগুলোকে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী ৭-৮ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সম্মেলনকে ন্যাটোর ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।













































